Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। - Gono television is the Bangladesh Government Approved 24/7 News Based TV Channel and Most Reliable News Source and Leading 24/7 News Based TV Channel in Bangladesh, It also the Most Popular News Media for Bangaldesh and Bengali Audience worlwide since 2016.

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

 

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

 

আধুনিক সামরিক অবকাঠামো ও কৌশলগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক কমান্ড কমপ্লেক্স ‘দ্য অক্টাগন’ (The Octagon) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে মিশর। শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এ অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। মিশর সরকার একে বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক সামরিক কমান্ড এবং জাতীয় নিরাপত্তা সদর দপ্তর হিসেবে দাবি করছে।

 

মিশরীয় সরকারি সূত্র ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে গড়ে ওঠা নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এই কমপ্লেক্সটি ‘স্টেট স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড সেন্টার’ প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। এর লক্ষ্য হলো সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ, সমন্বয় ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থাকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর ও দ্রুততর করা।

 

প্রায় ৯২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল স্থাপনাটি আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক অবকাঠামো। মিশরের দাবি অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন-এর চেয়েও বড়।

 

‘অক্টাগন’ নামকরণের পেছনে রয়েছে এর ব্যতিক্রমী স্থাপত্যশৈলী। অষ্টভুজ আকৃতির একাধিক ভবনের সমন্বয়ে নির্মিত এই কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। এটি মিশরের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

 

নতুন এই সামরিক সদর দপ্তরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ছাড়াও রয়েছে অত্যাধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, তথ্য বিশ্লেষণ ইউনিট, কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক পরিচালনা অবকাঠামো।

 

শুধু সামরিক কমান্ড নয়, এই বিশাল কমপ্লেক্সকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক নগরীর রূপও দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল, শপিং সেন্টার, বিনোদন ও বিভিন্ন সেবামূলক স্থাপনা। ফলে এটি একাধারে সামরিক, প্রশাসনিক ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

 

মিশর সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অক্টাগন’ প্রকল্পের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

 

ইতোমধ্যে নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্থানান্তর সম্পন্ন করেছে মিশর। সেই ধারাবাহিকতায় ‘দ্য অক্টাগন’ এর উদ্বোধনকে কেবল একটি সামরিক স্থাপনার সূচনা নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিশরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পরিবর্তিত নিরাপত্তা বাস্তবতায় এই প্রকল্প মিশরের সামরিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে।

 

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের মধ্যে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার খোয়াই নদীর পূর্ব তীরের চরহামুয়া-কালীগঞ্জ এলাকায় নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে হঠাৎ বাঁধটি ভেঙে গেলে নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং রাতের মধ্যেই আরও কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর চরহামুয়া, কালীগঞ্জসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় দ্রুত পানি ছড়িয়ে পড়ে। এতে অসংখ্য ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে সরে যেতে শুরু করেছেন।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে ১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন, ৪ নম্বর পইল ইউনিয়ন, ৩ নম্বর তেঘরিয়া ইউনিয়ন এবং ভাটি অঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদী থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে তীররক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রবল স্রোতের চাপে সেই দুর্বল বাঁধ ভেঙে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের দাবি।

 

১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নিয়মের বাইরে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধ দুর্বল হয়ে গেছে। প্রবল পানির চাপে সেটি ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় এড়াতে খোয়াই নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।”

 

এদিকে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২০ গ্রাম

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা, যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন।

 

এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি এসব অঞ্চলে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয় ও জরুরি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে।

 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

 

এদিকে সাতকানিয়ায় উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

 

বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

 

সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

 

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

 

এদিকে গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

খাদ্য সংকটে চট্টগ্রামের লাখ লাখ পানিবন্দি মানুষ

দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আগামী ডিসেম্বরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেছেন।

 

টেলিফোনে বৃহস্পতিবার রাতে রয়টার্সকে সাক্ষাৎকারটি দেন তিনি। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে শুক্রবার। শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশে ফেরার পর তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবু আমাকে যেতেই হবে। আমার দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। মৃত্যু যদি আসেই, তবে আমি চাই তা যেন নিজের মাটিতেই হয়।’

 

জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনগুলোর সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ও তাঁর দলের সদস্যরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। আদালতে নিজেদের সমর্পণ করার মাধ্যমে তাঁরা মূলত বর্তমান কর্তৃপক্ষের আচরণের পরীক্ষা নিতে চান।

 

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কয়েক দফায় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। রয়টার্স লিখেছে, দুই বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে বর্তমান সরকার যখন স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তখন শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র হতে পারে।

ভারতে নির্বাসিত হওয়ার পর শেখ হাসিনা এই প্রথমবারের মতো দেশে ফেরার নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করলেন। দেশে ফেরা বা এর সময়সূচির ব্যাপারে তিনি কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করেননি জানিয়ে বলেন, ‘তারা আমাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বারবার ভারতের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছে। আমি নিজেই চলে যাব।’

 

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও মৃত্যুদণ্ডের সাজা পেয়েছেন। রয়টার্স দলটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে সাড়া পায়নি।

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার

বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শনিবারের (১১ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (১০ জুলাই) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবহাওয়ার মারাত্মক অবনতি ও বন্যা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলায় (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) আগামীকাল শনিবারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের (বিষয় কোড-২৭৫) পরীক্ষাটি স্থগিত করা হলো।

 

এতে আরও বলা হয়, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।

 

এ ছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় সব কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাইকিং করে এলাকায় বিষয়টি জানিয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

শুক্রবার (১০ জুলাই) উত্তর আমেরিকা থেকে দেশে ফেরার পর ভূমধ্যসাগর উপকূলের আলামেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হন অসংখ্য সমর্থক। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে স্বাগত জানাতে সেখানে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর ছবি সংবলিত ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ধন্যবাদ’।

 

এবারের বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে মিশর। চারবারের চেষ্টায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ পায় দলটি। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট।

 

বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে নিউ আলামেইন শহর প্রদক্ষিণ করেন খেলোয়াড়রা। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো সমর্থকের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তারা। শনিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

সমর্থকদের হাতে প্রধান কোচ হোসাম হাসানের বড় বড় ছবিও দেখা যায়, যেগুলোতে ফিলিস্তিনের পতাকা জড়ানো ছিল। বিশ্বকাপ চলাকালে ফিলিস্তিনের প্রতি তার প্রকাশ্য সমর্থনের স্বীকৃতি হিসেবেই এমন আয়োজন করা হয়েছে। টুর্নামেন্টজুড়ে তিনি একাধিকবার মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করেন এবং সংবাদ সম্মেলনেও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে বক্তব্য দেন।

 

শেষ ষোলোয় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় মিশর। ম্যাচের শেষ ১১ মিনিটে টানা তিন গোল হজম করে বিদায় নিতে হলেও বিশ্বকাপে এটিই দেশটির ইতিহাসের সেরা সাফল্য। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর শেষ ৩২-এ অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছিল ফারাওরা।

আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায়, মিশর দলকে বরণ করলেন হাজারো সমর্থক

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার। পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। বৃষ্টির সঙ্গে যোগ হয়েছে পাহাড়ধস। পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। জলমগ্ন ঘরবাড়িতে খাবার ও থাকার অবস্থা নেই।

 

এরইমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে শুকনো খাবারসহ ত্রাণ সহায়তা। বৃষ্টি এখনও বন্ধ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢল ও বানের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

টানা কয়েকদিন ধরে পানি তলিয়ে গেছে বান্দরবানের বিস্তীর্ণ এলাকা। টানা বর্ষণে সাঙ্গু, মাতামুহুরী আর বাঁকখালী নদীর পানি বেড়েছে। প্লাবিত হয়েছে নিচু এলাকাগুলো। চরম ভোগান্তিতে পানিবন্দি এলাকার বাসিন্দারা।

 

পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন উপজেলাসহ ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বৈরি আবহাওয়ায় বিপাকে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। অনেকেই উঠেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে শুকনো খাবার।

 

আর টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়িসহ নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের কারণে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। খোলা হয়েছে একাধিক আশ্রয়কেন্দ্র। সাজেকে আটকা পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।

 

এদিকে, খাগড়াছড়িতে চেঙ্গী নদী ও আশপাশের ছড়া-খালের পানি নেমে যাওয়ায় শহরের নিচু এলাকার ঘরবাড়ি ও সড়ক থেকে পানি নেমেছে। শুরু হয়েছে যান চলাচল। তবে, দীঘিনালার মাইনী নদীর পানিতে ছোট মেরুং ইউনিয়নে এখনও জলমগ্ন হাজারো পরিবার। থেমে থেমে চলছে বৃষ্টিপাত।

 

এছাড়াও কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, রামুসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল এখনও পানিতে তলিয়ে আছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে চকরিয়ার নিচু এলাকার বাসিন্দারা। বৃষ্টির পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলের কারণে নিমজ্জিত বিস্তীর্ণ এলাকা। পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন।

 

অন্যদিকে, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত। পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি উপচে লোকালয় ডুবেছে। চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। বৃষ্টি কিছুটা কমে আসায় চট্টগ্রাম নগরীর বেশিরভাগ জলাবদ্ধ এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। তবে, এখনও নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে আছে।

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। এ সময় ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের কোথাও কোথাও অস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টায় প্রকাশিত ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানান আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক।

 

সতর্কবার্তায় বলা হয়, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) এবং অতি ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে।

 

এতে আরও বলা হয়, ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।

 

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি পাহাড়ি অঞ্চলে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

দেশের ৮ বিভাগেই অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের শঙ্কা

টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চারটি বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে পাহাড়ধসে অন্তত ৩০ জন মারা গেছেন। এছাড়া বিভাগের অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

 

এর মধ্যেই বৃষ্টিপাত নিয়ে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

শুক্রবার (১০ জুলাই) আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় বৃষ্টির পরিমাণ কমেছে।

এর আগে যেখানে ৩২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় তা নেমে এসেছে ২১১ মিলিমিটারে।

 

তবে দেশের সব অঞ্চলের জন্য স্বস্তির খবর নয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থানে এখনও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকায় থেমে থেমে সারাদিন বৃষ্টি হতে পারে।

 

জুলাই মাস বর্ষাকালের মধ্যভাগ হওয়ায় এই সময়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক বলেও উল্লেখ করেন আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ। তিনি, এ মাসে এমন বৃষ্টিপাত অস্বাভাবিক নয়।

 

বৃষ্টির পরিস্থিতি কবে থেকে আরও উন্নতি হতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগামী শনি ও রোববার থেকে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।

 

এছাড়া আবহাওয়ার উন্নতি হলে শনিবার থেকেই নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি থাকা সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন এই আবহাওয়াবিদ।

কবে থেকে কমতে পারে ভারী বৃষ্টি, জানালেন আবহাওয়াবিদ

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের ১৪টি জেলার ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

শনিবার (তারিখ) প্রকাশিত পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণও হতে পারে।

 

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুলের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা (২ দিন) রংপুর,রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪–৮৮ মি.মি) থেকে অতি ভারি (৮৮ মি.মি-বেশি) বর্ষণ হতে পারে।

 

এছাড়া, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে আজ শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য আবহাওয়া অফিসের দেওয়া অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৪টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ৪৫-৬০ কি.মি. বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

 

এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ০১ নম্বর (পুনঃ) ০১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের সতর্ক বার্তা

বাঁশখালীর গুনাগরি এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ঢুকতেই হঠাৎ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এই ডাক। কেউ ঘরের বারান্দা থেকে, কেউ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র থেকে, আবার কেউ কোমরসমান পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে অন্যদের খবর দিচ্ছিলেন। কয়েকজন শিশু দৌড়ে সামনে চলে যায়। বয়স্করাও ভিড় করে রাস্তার পাশে।

 

‘দাদু’—এই একটি শব্দেই সবাই চিনে ফেলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে। নির্বাচনের আগ থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই সম্বোধন এখন অনেকের মুখে মুখে। শুক্রবার বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকায় তার সফরের সময় সেই ডাক যেন বাস্তব দৃশ্যে রূপ নেয়।

ডা. শফিকুর রহমান গাড়ি থেকে নেমে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। এরপর লাবুর দোকানের পাশে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যান। সেখানে তিন দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক পরিবারের হাতে নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।

 

ত্রাণ বিতরণ শেষ করেই তিনি থেমে থাকেননি। যে বাড়িগুলোতে পানি ঢুকে মানুষ বের হতে পারছেন না, সেগুলো দেখতে নিজেই এগিয়ে যান। পাঞ্জাবির নিচের অংশ গুটিয়ে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে একের পর এক বাড়িতে পৌঁছান। কোথাও দরজার সামনে দাঁড়িয়ে খোঁজ নেন, কোথাও ঘরের ভেতরে থাকা শিশু ও বৃদ্ধদের সঙ্গে কথা বলেন। কারও হাতে তুলে দেন সহায়তা, কারও কাঁধে হাত রেখে সাহস জোগান।

 

গুনাগরির বাসিন্দা আহমেদ হোসেন বলেন, তিন দিন ধরে আমরা পানির মধ্যে আছি। অনেকেই এসেছে, ছবি তুলে চলে গেছে। কিন্তু উনি আমাদের ঘরের সামনে পর্যন্ত এসে খোঁজ নিয়েছেন।

 

লাবুর দোকানের দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নেওয়া ফারাছা বেগম বলেন, আমাদের ঘরের চাল পর্যন্ত পানি। আমরা শুধু প্রাণ নিয়ে বের হয়েছি। উনি এসে আমাদের কথা শুনেছেন। সাহায্য দিয়েছেন। এতে মনে হচ্ছে কেউ অন্তত আমাদের কথা ভাবছে।

 

স্থানীয় তরুণ রুবেল হোসেন বলেন, মানুষ তাকে ‘দাদু’ বলে ডাকে। আজ দেখলাম, ডাক শুনে তিনি মানুষের কাছেই চলে গেলেন। নিরাপদ জায়গায় দাঁড়িয়ে ত্রাণ দিয়ে ফিরে যাননি।

 

একই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কিরণ বালা জলদাস বলেন, আমার সঙ্গে ছোট নাতি আছে, আবার ২০ দিনের একটা শিশুও আছে। উনি এসে বাচ্চাদের খোঁজ নিলেন। এই সময় কেউ পাশে দাঁড়ালে সাহস পাওয়া যায়।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গুনাগরির অন্তত ৩০০টি বাড়ি পানির নিচে। অনেক পরিবার তিন দিন ধরে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। কেউ স্কুলে, কেউ দোকানের দোতলায়, কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ।

 

ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

 

তিনি বলেন, আমি এখানে রাজনীতি করতে আসিনি। বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা শুনতেই এসেছি।

 

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দল বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষের দুর্ভোগ কাগজে-কলমে বোঝা যায় না। মাঠে এসে না দেখলে এই কষ্ট অনুভব করা সম্ভব নয়। সরকারের উচিত দ্রুত উদ্ধার, পুনর্বাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা।

 

সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। মহান আল্লাহ তাদের মাগফিরাত দান করুন।

 

বক্তব্য শেষ করে তিনি আবারও পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের দিকে এগিয়ে যান। কেউ তার সঙ্গে হাত মেলাতে চান, কেউ ছবি তুলতে চান, আবার কেউ শুধু নিজের ক্ষতির কথা বলতে চান।

 

পেছন থেকে তখনও ভেসে আসছিল একই ডাক ‘দাদু আসছে… দাদু আসছে…’

বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি : জামায়াত আমির

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

খেলাধুলা

শুক্রবার (১০ জুলাই) উত্তর আমেরিকা থেকে দেশে ফেরার পর ভূমধ্যসাগর উপকূলের আলামেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হন অসংখ্য সমর্থক। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে স্বাগত জানাতে সেখানে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর ছবি সংবলিত ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ধন্যবাদ’।

 

এবারের বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে মিশর। চারবারের চেষ্টায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ পায় দলটি। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট।

 

বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে নিউ আলামেইন শহর প্রদক্ষিণ করেন খেলোয়াড়রা। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো সমর্থকের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তারা। শনিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

সমর্থকদের হাতে প্রধান কোচ হোসাম হাসানের বড় বড় ছবিও দেখা যায়, যেগুলোতে ফিলিস্তিনের পতাকা জড়ানো ছিল। বিশ্বকাপ চলাকালে ফিলিস্তিনের প্রতি তার প্রকাশ্য সমর্থনের স্বীকৃতি হিসেবেই এমন আয়োজন করা হয়েছে। টুর্নামেন্টজুড়ে তিনি একাধিকবার মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করেন এবং সংবাদ সম্মেলনেও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে বক্তব্য দেন।

 

শেষ ষোলোয় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় মিশর। ম্যাচের শেষ ১১ মিনিটে টানা তিন গোল হজম করে বিদায় নিতে হলেও বিশ্বকাপে এটিই দেশটির ইতিহাসের সেরা সাফল্য। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর শেষ ৩২-এ অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছিল ফারাওরা।

আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায়, মিশর দলকে বরণ করলেন হাজারো সমর্থক

২০২৬ বিশ্বকাপে ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ আছে ইংল্যান্ডের রেফারি মাইকেল অলিভারের সামনে। তবে ইংল্যান্ড কিংবা আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন ৪১ বছর বয়সী এই ইংলিশ রেফারি। এমনকি তার স্বদেশি রেফারি অ্যান্থনি টেলরও আর্জেন্টিনা ফাইনাল খেললে সেই ম্যাচটি পরিচালনার সুযোগ পাবেন না।

 

স্বার্থের সংঘাত এড়াতে এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে রেফারিদের সাধারণত নিজ দেশের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় না। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডের ম্যাচেও দুই দেশের রেফারিদের দায়িত্ব না দেওয়ার নীতি অনুসরণ করে আসছে ফিফা।

 

এর পেছনে রয়েছে ৪৪ বছর পুরোনো এক রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ১৯৮২ সালে সংগঠিত ফকল্যান্ডস যুদ্ধের কারণে আর্জেন্টিনা সংশ্লিষ্ট ম্যাচে ইংল্যান্ডের কোনো রেফারিকে কিংবা ইংল্যান্ড সংশ্লিষ্ট ম্যাচে আর্জেন্টিনার কোনো রেফারিকে দায়িত্ব দেয় না বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

 

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ১৯৮২ সালে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। সেই সংঘাতে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ জন সামরিক সদস্য নিহত হন। বিষয়টি এখনো দুই দেশের মধ্যে সংবেদনশীল রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

এ কারণে আর্জেন্টিনা যদি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠে তাহলে ইংল্যান্ডের রেফারি হিসেবে মাইকেল অলিভারকে সেই ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে না। একইভাবে ইংল্যান্ডও ফাইনালে খেললে আর্জেন্টাইন কোনো রেফারিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় না।

 

এর আগেও একই কারণে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ হারিয়েছিলেন অ্যান্থনি টেলর। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠায় এই ইংলিশ রেফারি সেই পরিচালনার দায়িত্ব থেকে ছিটকে যান।

 

এবারের বিশ্বকাপে অলিভার ইতোমধ্যে ছয়টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। আগামী ১১ জুলাই লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠেয় স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটিও তিনি পরিচালনা করবেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ৭টি ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালনের মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি, যা কোনো ইংলিশ রেফারির জন্য সর্বোচ্চ।

আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলেই ‘বদলে যাবে’ রেফারি!

বিশ্বকাপ মানেই আনন্দ আর উন্মাদনা। কথার লড়াই। আর এ যুগে এসে ফেসবুকে মেনশন করে পোস্ট দেওয়া আর কমেন্ট যুদ্ধে নিজের দলকে সবার উঁচুতে রাখার প্রানপণ চেষ্টা চলতেই থাকে। তবে বাংলাদেশে এখানেই থেমে নেই; উন্মাদনার আড়ালে কথা কাটাকাটি, মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এমনকি সংঘর্ষে প্রাণও যাচ্ছে অনেকের। সমর্থকদের বাগ্‌বিতণ্ডা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য, পতাকা টাঙানো কিংবা খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ১২ হাজার কিলোমিটার (প্রায় ৮,২০০ থেকে ৮,৬০০ মাইল) দূরত্বের এই খেলা নিয়ে দেশের আহতও হয়েছেন শতাধিকের বেশি মানুষ।

 

নিহতদের মধ্যে তিনজন ছুরিকাঘাতে, তিনজন পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, একজন সড়ক দুর্ঘটনায়, একজন ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে, একজন স্ট্রোকে, একজন কিশোরদের ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষে এবং সর্বশেষ একজন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন।

 

সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের সংঘর্ষে মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নিহত হন। তিনি মিশরের সমর্থক ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আর্জেন্টিনা সমর্থক হিসেবে পরিচিত দুই ব্যক্তি তার মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

এ ছাড়া গতকাল মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের পর অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের রসুল উদ্দীন (৪০) নামের এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়। তিনি এলাকায় আর্জেন্টিনা ও ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

 

একই রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ

গতকাল রাতে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ ঘিরে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন আহত হন। গুরুতর আহত ব্রাজিল সমর্থক মাঈনুদ্দিন মিঠুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল রাতে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ম্যাচকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে একাডেমিক ভবনে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

 

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও গতকাল রাতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা, হুমকি এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ঝিনাইদহের কালীগঞ্জেও গতকাল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষে মামুন হোসেন (২২) নামে এক যুবক আহত হন।

 

টানা কয়েকদিনের সংঘর্ষ

গত ৬ জুলাই বগুড়ার শিবগঞ্জে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এইচএসসি পরীক্ষার্থী জয় কুমার ও বিশাল কুমার গুরুতর আহত হন। এর আগে ২৯ জুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় ধূমপানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, এক সহকারী প্রক্টরসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

 

এ ছাড়া গত ২৮ জুন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের উচাইল স্কুলবাড়ি মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। গত ২২ জুন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া ১৮ জুন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফুটবল খেলা নিয়ে তুচ্ছ বিরোধে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

 

আগের প্রাণহানির ঘটনাগুলো

বিশ্বকাপ শুরুর পর গত ১ জুলাই একই দিনে ঢাকার আদাবর, সিলেটের জকিগঞ্জ ও ঢাকার আশুলিয়ায় তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনজন নিহত হন। রাজধানীর আদাবরে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার সময় বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আবুল বাশার বাদশা নামে বিএনপির এক নেতা নিহত হন।

 

আশুলিয়ায় ফুটবল ম্যাচ নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোর নাহিদ হাসানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। সিলেটের জকিগঞ্জে ফুটবল খেলার উল্লাসকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত হন আলম আহমদ। এ ছাড়া গত শুক্রবার নড়াইল সদরে কিশোরদের ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধে মোস্তফা কাজী নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

 

পতাকা টাঙাতে গিয়ে তিন মৃত্যু

বিশ্বকাপের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ জুন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে মাহিন শেখ নামে এক স্কুলছাত্র মারা যান। ১৫ জুন চট্টগ্রামে আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙাতে গিয়ে রামহরি বৈষ্ণবের মৃত্যু হয়। ৯ জুন মানিকগঞ্জ সদরে ব্রাজিলের পতাকা টাঙানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান ফয়সাল নামে এক যুবক।

 

আরও কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনা

গত ১৩ জুন ভোলায় বিশ্বকাপ উপলক্ষে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়। গত শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে মাহিদুল ইসলাম নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। একই দিন বরগুনার তালতলীতে ফুটবল ম্যাচের অনুশীলনের সময় স্ট্রোক করে মারা যান খোকন কর্মকার।

 

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, খেলাকে খেলা হিসেবেই নেওয়া উচিত। এখানে অতিরঞ্জনের কিছু নেই। সকলের সচেতন করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সুশীল সমাজের এগিয়ে আসতে হবে। যারা বোঝে না, তাদের বোঝানো দরকার।

 

বিশ্বকাপে সংঘটিত হওয়া সহিংসতা নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মুহম্মদ আসাদুজ্জামান সাদী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এখানে গা ভাসিয়ে দেওয়া যাবে না। ফুটবল বিশ্বকাপকে শুধু বিনোদনের উপকরণ হিসেবেই নিতে হবে। এ খেলা নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ও আবেগতাড়িত হওয়া যাবে না। আবেগ ভালো কিছু বয়ে আনে না। যখন আমরা অতি আবেগ দেখিয়ে পারস্পারিক বিতর্কে জড়াব, তখন সমাজে, বন্ধু বন্ধু, এমনকি কাছের মানুষের সঙ্গে সহিংসতা ঘটছে। সকলকে আবেগ থেকে বেরিয়ে এসে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উন্মাদনার আড়ালে ট্র্যাজেডি: ১২ হাজার কিলোমিটার দূরের খেলা নিয়ে বাংলাদেশে মৃত্যু ১২

৪৮ দল নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্বকাপে এখন টিকে আছে আটটি দল। একদিন বিরতির পর আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে ফিফার এই মেগা ইভেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল শুরু হবে। নতুন এই রাউন্ডে নামার আগে দুর্ভাবনায় আছে ৮ দলের অন্তত ১৮ ফুটবলার। কারণ আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই দল সেমিফাইনালে উঠলে খেলতে পারবেন না তারা।

 

এই তালিকায় আছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো অন্যতম ফেভারিট দলগুলোও। তবে কিছুটা বেশি দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে ইংল্যান্ড ও মরক্কোকে। কারণ দুটি দলেরই চারজন করে ফুটবলার নকআউট রাউন্ডে একটি হলুদ কার্ড দেখেছেন। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে বেশ সতর্কতার সঙ্গে খেলতে হবে তাদের। এ ছাড়া সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের তিন জন করে এবং স্পেন, বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা ও নরওয়ের একজন করে হলুদ কার্ড দেখেন।

 

এই বিশ্বকাপের আগে অবশ্য হলুদ কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞায় পরিবর্তন এনেছিল ফিফা। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে একটি দলকে পাঁচটি ম্যাচ খেলতে হয়। ফিফার আগের নিয়ম অনুযায়ী– ওই সময়ের মধ্যে যেকোনো দুটি ম্যাচে হলুদ কার্ড পেলেই পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ হন সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়। ৩২ দলের পরিবর্তে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে ৪৮টি দল। ফলে নকআউট পর্বে একটি বাড়তি রাউন্ড যোগ হয়েছে। ফিফা মনে করছে, বাড়তি এই রাউন্ডের কারণে ফুটবলারদের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।

 

আগের নিয়মে কোনো পরিবর্তন না আনা হলে সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তারকা খেলোয়াড়দের হারানোর আশঙ্কা করে ফিফা। কারণ, সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে এবার খেলোয়াড়দের ছয়টি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে চালু হয় নতুন কার্ড নীতি। গ্রুপ পর্বে পাওয়া সব হলুদ কার্ড নকআউট পর্ব শুরুর আগে বাতিল (রিসেট) হয়ে গেছে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে আবারও হলুদ কার্ডের হিসাব শুরু হয়।

 

বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, ভিন্ন দুই ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলে খেলোয়াড়কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয়। ফলে শেষ ৩২ কিংবা শেষ ষোলোর ম্যাচে যারা ইতোমধ্যে একটি হলুদ কার্ড পেয়েছেন তারা আবারও সতর্কবার্তা পেলে, সংশ্লিষ দল সেমিফাইনালে উঠলে তারা ম্যাচটি খেলতে পারবেন না। যেহেতু কোয়ার্টার ফাইনালের পর হলুদ কার্ডের তালিকা আবার নতুন করে শুরু হয়, তাই হলুদ কার্ডের সংখ্যার কারণে কোনো খেলোয়াড় ফাইনালে নিষিদ্ধ হবেন না। কেবল সেমিফাইনালে লাল কার্ড পেলেই ফাইনালে খেলতে পারবেন না তিনি।

 

লাল কার্ড পাওয়া খেলোয়াড় স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হবেন। আবার সহিংস আচরণের ক্ষেত্রে মাত্রা অনুসারে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার অধিকার রাখে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি। প্রসঙ্গত, আজ (৯ জুলাই) থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল, ১৪-১৫ জুলাই সেমিফাইনাল, ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এবং ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে মেগা আসরের ফাইনাল।

 

নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে যে ১৮ ফুটবলার

ইংল্যান্ড : জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস, মার্ক গেয়ি

 

মরক্কো : ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, রেদোয়ান হালহাল, বিলাল এল খানুস

 

ফ্রান্স : মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে, ব্রাডলি বারকোলা

 

সুইজারল্যান্ড : গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া, মিরো মুহাইম

 

আর্জেন্টিনা : গঞ্জালো মন্টিয়েল

 

স্পেন : ফেররান তোরেস

 

বেলজিয়াম : ব্র্যান্ডন মেচেলে

 

নরওয়ে : অ্যা

ন্তোনিও নুসা

 

বিশ্বকাপে নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় আর্জেন্টাইন তারকাসহ ১৮ ফুটবলার

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের বাতিল হওয়া গোলের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলে মনে করেন রেফারিং বিশেষজ্ঞ ও সাবেক প্রিমিয়ার লিগ রেফারি গ্রাহাম স্কট। মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) রাতে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া বিশ্লেষণমূলক সাক্ষাৎকারে তিনি মোহাম্মদ সালাহর বিষয়টিও তুলে ধরেন।

 

গ্রাহাম স্কট বলেন, ‘আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মোহাম্মদ সালাহর সঙ্গে ফাউলের অভিযোগে মিসরের পেনাল্টির দাবিটি খারিজ করার সিদ্ধান্তও সঠিক।’

 

তার মতে, সালাহর বুটে সামান্য সংস্পর্শ হয়েছিল ঠিকই, তবে সেটি ফাউল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ছিল না।

 

জিকোর বাতিল হওয়া গোলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘৬৭তম মিনিটের গোলের আগে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সঙ্গে আতিয়ার যে সংঘর্ষ হয়েছিল, সেটি ছিল স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শ। এটিকে ফাউল হিসেবে ধরা উচিত হয়নি।’

 

গ্রাহাম স্কট বলেন, ‘জিকোর গোলের আগের ঘটনাটি গোলপোস্ট থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ঘটেছিল। এরপর আর্জেন্টিনার রক্ষণ গুছিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সময় ছিল। তাই ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে গোল বাতিল হওয়ায় মিসরের ক্ষুব্ধ হওয়াটা স্বাভাবিক।’

 

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, রিপ্লেতে আতিয়ার পায়ের সঙ্গে প্রতিপক্ষের পায়ের সামান্য সংস্পর্শ এবং ক্ষণিকের জন্য জার্সি ধরে রাখার ঘটনা দেখা গেলেও, সেটি ভিএআরের হস্তক্ষেপের মতো কোনো স্পষ্ট ফাউল ছিল না।

 

গ্রাহাম স্কটের ভাষায়, এটি ছিল ভিএআরের একটি বিস্ময়কর হস্তক্ষেপ এবং ‘স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল’ সংশোধনের সীমা অতিক্রম করার উদাহরণ। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি গোলের আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার পুরো প্রক্রিয়া ভিএআর পর্যালোচনা করে। তবে কোনো গোল বাতিল করতে হলে সেখানে স্পষ্ট ফাউল থাকতে হয়, যা এই ঘটনায় ছিল না।

 

তিনি বলেন, ‘সাধারণভাবে কোনো চ্যালেঞ্জ ও গোলের মধ্যে সময় ও দূরত্ব যত বেশি থাকে, সেই চ্যালেঞ্জকে ফাউল হিসেবে গণ্য করার মানদণ্ডও তত কঠোর হওয়া উচিত। কিন্তু এই ঘটনায় এমন কোনো অপরাধই ছিল না, যাতে ভিএআরের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন ছিল।’

 

এদিন আর্জেন্টিনা দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। ম্যাচের পর মিসরের কোচ এবং খেলোয়াড়রা রেফারিং নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের বাতিল হওয়া গোলের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল

বিশ্বমঞ্চে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে মিসর।

 

তবে আর্জেন্টিনার এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের চেয়েও এখন বড় আলোচনার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ারের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং ভিএআরের রহস্যজনক ভূমিকা।

 

মিসরের একটি গোল বাতিল এবং পেনাল্টি বঞ্চিত হওয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মিসর কোচ হোসাম হাসানের পর এ নিয়ে এবার ফিফা ও রেফারির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন হোসে মরিনহো, অ্যালান শিয়েরার ও গ্যারি ক্যাসপারভের মতো কিংবদন্তিরা।

 

রিয়াল মাদ্রিদ ও চেলসির সাবেক কিংবদন্তি কোচ জোসে মরিনিয়ো রেফারি ও ভিএআরের এ ভূমিকাকে সরাসরি ‘দিনের আলোয় ডাকাতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

 

তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, ‘যখন আপনি এই আর্জেন্টিনা দলটির বিপক্ষে খেলবেন, তখন ২-০ গোলে এগিয়ে থাকাও যথেষ্ট নয়। কারণ আপনি মাঠে শুধু ১১ খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে খেলছেন না। আপনি খেলছেন রেফারির বাঁশির বিরুদ্ধে, আপনি খেলছেন ভিএআর রুমের বিরুদ্ধে, এমনকি আপনি খেলছেন এ টুর্নামেন্টের পুরো পাতানো চিত্রনাট্যের বিরুদ্ধে!’

রেফারিং নিয়ে বিশ্বখ্যাত দাবাড়ু ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গ্যারি ক্যাসপারভ ফিফাকে ধুয়ে দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘মিসরের দুর্দান্ত একটি গোল বাতিল করা হলো অনেক দূরের এক ফাউলের অজুহাতে। অথচ কয়েক মিনিট পর ঠিক একই রকম পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনার গোল বাতিল করা হলো না!’

 

ক্যাসপারভ সরাসরি ফিফাকে একটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত তামাশা’ বলে অভিহিত করেন, যারা তাদের বড় তারকাদের সুবিধা পাইয়ে দিতে ব্যস্ত।

 

ইংল্যান্ডের সাবেক কিংবদন্তি স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়েরারও ভিএআরের এই দ্বিচারিতার সমালোচনা করে ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘হয় দুটোই ফাউল, না হলে একটাও ফাউল নয়। কিন্তু তারা (ফিফা) তো আমাদের বলেছিল যে, তারা ম্যাচের ভেতর নতুন করে রেফারিং করবে না!’

 

সাবেক আর্সেনাল তারকা ইয়ান রাইটও মিসরের এই ক্ষোভকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক বলে সমর্থন জানিয়েছেন।

আর্জেন্টিনার জয় যেন দিনের আলোয় ডাকাতি: জোসে মরিনিয়ো

বিস্তারিত....

বিনোদন

আজ ২৫শে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম আবির্ভাব দিবস। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ শে বৈশাখ, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষের অন্যতম এই নায়কের। তিনি অনন্য সব সৃষ্টি গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প ও অসংখ্য গানের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বের কাছে।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন আট বছর বয়সে। ১৮৯১ সাল থেকে বাবার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও ওড়িশার জমিদারি তদারকি শুরু করেন। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘসময় অতিবাহিত করেন। ১৯০১ সালে সপরিবারে চলে আসেন বীরভূমের বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ এবং অন্যান্য গদ্য সংকলন। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ নোবেল বিজয়ী এই সহিত্য প্রতিভাকে স্মরণ করবে তার অগণিত ভক্ত।

 

বিটিভিতে সকাল ৯টায় থাকছে বিশেষ শিশুতোষ অনুষ্ঠান। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রচারিত হবে রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান ‘গীতবিতান’। সন্ধ্যা ৬টায় থাকছে বিশেষ কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান। রাত ৯টায় থাকছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নাটক ‘সম্পত্তি সমর্পণ’। রাত ১০টায় সংবাদের পর প্রচারিত হবে বিশেষ রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে কবির বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রিয় ৯টি গান পরিবেশন করবেন একঝাঁক রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। রাত ১১টায় প্রচারিত হবে ‘চিত্রাঙ্গদা’।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যজগৎ ছিল নানা বর্ণ, মানসিকতা ও চেতনায় ভরপুর। তাইতো, নিঃসঙ্গতার প্রতিচ্ছবি চারুলতা, সামাজিক বেড়াজাল ভেঙে আত্মসচেতন হয়ে ওঠা বিনোদিনী কিংবা গোরা উপন্যাসের স্বদেশপ্রেম ও জাতিসত্তার পরিচয়ে জর্জরিত পুরুষের মধ্যে আজও পাঠক খুঁজে ফেরে নিজেদের। বাংলার মাটিতে যেমন তাঁর কদর, তেমনি বিশ্ব দরবারেও সমানভাবে ছড়িয়ে আছে তার দীপ্তি। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯১৩ সালে নবজাগরণের এই পুরোধাকে ভূষিত করা হয় নোবেল পুরস্কারে। দিনটি উদযাপনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে নানা আয়োজন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী আজ

প্রতিবেদন: ওমর ফারুক

আজ ৩ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়বদ্ধতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।

১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে ৩ মে-কে বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে ১৯৯১ সালে নামিবিয়ার উইন্ডহুকে গৃহীত উইন্ডহুক ঘোষণা-এর মাধ্যমে স্বাধীন ও বহুমুখী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়, যা পরবর্তীতে এই দিবস ঘোষণার ভিত্তি তৈরি করে।

বর্তমান সময়ে গণমাধ্যম সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখছেন।

বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে গণ টেলিভিশন-এর পক্ষ থেকে দেশের সকল সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও দর্শকদের জানানো হয়েছে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস

প্রতিবেদনঃ ওমর ফারুক

যারা বিবাহিত, তাদের তুলনায় অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক গবেষণায় এমন চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

 

 

২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় সব ধরনের প্রধান ক্যানসারের ক্ষেত্রেই অবিবাহিতদের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত।

 

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে মলদ্বারের ক্যানসারের হার বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ বেশি।

গবেষকদের মতে, বিয়ে অনেক সময় মানুষের জীবনযাপনকে প্রভাবিত করে। খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার মতো বিষয়গুলো এতে যুক্ত থাকে। ফলে এটি পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এর মানে এই নয় যে বিয়ে করলেই ক্যানসার থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে। বরং এটি একটি সামাজিক ও আচরণগত ইঙ্গিত মাত্র।

 

গবেষকরা আরও বলেছেন, যারা অবিবাহিত, তাদের উচিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা। নিয়মিত পরীক্ষা করানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখে।

 

অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, বলছে গবেষণা

বিস্তারিত....

মতামত

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা: পরীক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপি সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুল।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার সকল পরীক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপির সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক সাইফুদ্দিন সাইফুল।

 

আজ এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি পরীক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করেন।

 

শুভেচ্ছা বার্তায় সাইফুদ্দিন সাইফুল বলেন, “এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি তাদের ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গড়ার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। আমি আশা করি, আমাদের সাভারসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত ধৈর্য, মেধা ও মনোযোগের সাথে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজেদের মেধার সর্বোচ্চ স্বাক্ষর রাখবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরাই আমাদের আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। তাদের এই পথচলায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের অবদান অনস্বীকার্য। আমি সকল পরীক্ষার্থীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও পরীক্ষায় আশানুরূপ সাফল্য কামনা করছি। আল্লাহ যেন তাদের মনের আশা পূরণ করেন এবং তারা যেন দেশ ও জাতির কল্যাণে নিয়োজিত হতে পারে।”

 

একই সাথে তিনি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি পরীক্ষার্থীরা যাতে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপি সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুল

নাগরিক সমস্যার সমাধানে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর শেওরাপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সমস্যা সমাধান অভিযান শেষে তিনি এ কথা বলেন।

 

জামায়াত আমির বলেন, পানি, গ্যাস ও জলাবদ্ধতার মতো অনেক সমস্যার পেছনে নাগরিকদের অসচেতনতাও দায়ী। নিজের গার্বেজটা ড্রেনে নিয়ে আমরা ফেলে দিই। সরকার তো প্রতিদিন ড্রেন পরিষ্কার করবে না। সরকার পরিষ্কার করে দেবে, নাগরিকদের সেটা রক্ষা করতে হবে।

 

এসময় বর্জ্য ড্রেনে ফেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার, বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশকে সহযোগিতা এবং পরিবার থেকেই সন্তানদের চলাফেরা ও সঙ্গী সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি। এসময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ইতোপূর্বে উনার (ডা. শফিকুর রহমান) মতো দূরদর্শী নেতা সংসদে ছিল কি না, আমার জানা নেই। নিজ এলাকার দায়িত্বও তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন।

শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করবেন না: জামায়াত আমির

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, আবার জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সবকিছুতে এভাবে ইসলামের দোহাই দেওয়া ঠিক নয়’’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

 

আজ মঙ্গলবার (০৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

 

ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পদে সাম্প্রতিক রদবদল, গ্রাহক বিক্ষোভ এবং সাবেক এমডির পদত্যাগ নিয়ে আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন বিরোধীদলের এমপিরা।

 

পরে বিরোধীদলকে উদ্দেশ্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে বোর্ড অব ডিরেক্টরের সবাইকে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক অব্যাহতি দিতে পারে। এ বিষয়ে যদি কোনো প্রশ্ন তুলতে হয়, তবে আইন পরিবর্তন করে আসতে হবে।’’

 

অভিযোগ করে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ব্যাংকে বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে একটি মহল পর্দার আড়ালে থেকে ‘‘গ্রাহক’’ সেজে আন্দোলন করাচ্ছে। বিরোধীদল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করুক, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু বারে বারে এভাবে পর্দার আড়ালে ও পর্দার বাইরে প্রচারণা চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না।’

 

সংসদকে আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘ইসলামী ব্যাংকের বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার যথাযথভাবে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া, নাবিল গ্রুপসহ যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে আর ফেরত দেয়নি, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে, বিগত সময়ে নিয়ম না মেনে ব্যাংকটিতে যে ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’’

 

এর আগে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘একটি নতুন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে অযোগ্য ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে।’’

 

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে বিরোধীদলের উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘‘বিগত সরকারের আমলে ২৬টি ভুয়া কোম্পানি গঠন করে ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছিল এস আলম গ্রুপ। আর এখন বর্তমান সরকার ব্যাংকটিতে কিছু বিতর্কিত লোককে বসিয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের টাকা পুনরায় লুটপাট হবে, এটা অত্যন্ত পরিষ্কার।’’

 

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রশ্ন তোলেন, ‘‘কোন কারণে একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান করা হলো এবং কোন কারণে আগের এমডিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হলো? ইসলামী ব্যাংককে যদি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলতে না দেয়া হয়, তবে দেশে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।’’

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

সরকারের কোষাগারের টাকায় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

 

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে রাজধানীর নাখালপাড়ার হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি শেষে এ অভিযোগ করেন তিনি।

 

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। তারা চেয়ারে বসে নির্বাচন করতে পারবেন না। তারা লাখ লাখ পোস্টার লাগিয়ে নগরকে দূষিত করছেন। আবাসিক এলাকা, এমনকি মেট্রো স্টেশনেও গরুর হাট বসানো হয়েছে। এই অব্যবস্থাপনাই প্রমাণ করে তারা মেয়র হওয়ার যোগ্য নন।

 

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল) মিছিল হচ্ছে। যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা, কারণ আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে।

 

এদিকে, স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নেওয়ার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ জানান, জোটগতভাবে নির্বাচনে যাবে কি না তা তফসিলের পর দলগুলোর সাথে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ

৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার ‘ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা’ ‍দিয়েছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি রয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা।

 

মঙ্গলবার (৬ জুন) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ‘ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা’ উপস্থাপন করেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েই সংসদে গিয়েছিলাম। দুটি ভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু তারা একটি শপথ নিলেন, আরেকটি নিলেন না। গণভোটকে তারা অস্বীকার করলেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা যদি এভাবেই জনগণকে ধোঁকা দেয় তাহলে রাজনৈতিক দলের ওপর মানুষের আস্থা থাকবে কীভাবে?

 

জামায়াতের আমির বলেন, দুই-তৃতীয়াংশের জোরে সরকার আমাদের দাবি অগ্রাহ্য করে জনগণকে অপমান করেছে। গণভোটের রায় ব্যর্থ হওয়ার দলিল কোথাও নেই। এবারই প্রথম বিপত্তি ঘটলো। আমরা যে আশঙ্কা করেছিলাম, এখন তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সমাজে। আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক, সাংবাদিক সমস্ত জায়গায় আজকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ স্পষ্ট। সমাজের অপরাধী লোকদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে দেয়া হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, আমরা বাজেট কোনো দলের জন্য দিচ্ছি না, এই বাজেট ১৮ বা ২০ কোটি মানুষের। আমরা যে প্রস্তাবনা জনগণের সামনে পেশ করবো এটার শর্ত আছে। সততা, স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা থাকলে এটা অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আর একাউন্টটিবিলিটি না থাকলে যে বাজেট সরকার দেবে সেটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

 

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমাদের ফ্রিস্কাল ইয়ার জুলাই টু জুন। জুন মাস সাধারণত দেশ বর্ষা-খরা-সাইক্লোনে আক্রান্ত হয়। আমরা লক্ষ্য করি এডিপির একটা বিশাল অংশ শেষের দুই মাসে তাড়াহুড়ো করা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। এটি বাস্তবায়ন নয়, এটি হচ্ছে গণ লুটপাট। এর সুফল জনগণ পায় না। আমরা সংসদে প্রস্তাব দেব, আমাদের ফ্রিস্কাল ইয়ার ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে করা হোক। তাহলে বর্ষার পানিতে আমাদের টাকাগুলা ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে না।

৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার ‘ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা’ ‍দিয়েছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

বিস্তারিত....

সারাবাংলা

দুই দফা দাবিতে নীলফামারীতে ডাক কর্মচারীদের স্মারকলিপ

মাইদুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার

দুই দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতি ও ঐক্য পরিষদের নীলফামারী জেলা শাখার নেতারা। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজামানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হোসাইন মোঃ সেলিম রেজা, নীলফামারী জেলা শাখার পোস্টমাস্টার আমিনুল হক শাহ, ডিমলা শাখার পোস্টমাস্টার রেজাউল করিম, কিশোরগঞ্জ শাখার পোস্টমাস্টার আনিছুর রহমান এবং সৈয়দপুর শাখার পোস্টমাস্টার ওয়াহেদুল ইসলাম। সমাবেশে বক্তারা বলেন, তাদের দুই দফা দাবি হলো শাখার ডাকঘর কর্মচারীদের বেতন-ভাতা তিন গুন বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসনে কাজ করলেও ডাক বিভাগে কর্মরত শাখা ডাকঘর কর্মচারীরা এখনও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

দুই দফা দাবিতে নীলফামারীতে ডাক কর্মচারীদের স্মারকলিপি

 

নীলফামারীতে শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিল পরিদর্শনে গিয়ে পচা ডিম পেলেন ইউএনও

মাইদুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা মি- ডে মিলের খাবার পরিদর্শনে গিয়ে একটি পচা ডিম পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের নয়ানখাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যান ইউএনও। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুত রাখা মিড-ডে মিলের খাবারের মান পরীক্ষা করেন। পরিদর্শনের একপর্যায়ে একটি ডিম পচা অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে খাবারটি তখনও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। জানা যায়, বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য ডিম ও কলা সরবরাহ করেন বিদ্যালয়ের দপ্তরি আলী টিটুর স্ত্রী হেনা বেগম।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা বলেন,

“ইউএনও মহোদয় বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে একটি ডিম পচা পেয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তখনো ডিম বিতরণ করা হয়নি। ডিমগুলো সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন,”শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিদর্শনের সময় একটি ডিম নষ্ট পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।” নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম বলেন,”ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নীলফামারীতে শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিল পরিদর্শনে গিয়ে পচা ডিম পেলেন ইউএনও 

নীলফামারীতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণী

মাইদুল ইসলাম

এস্টাব: রিপোর্টার

জেলা নীলফামারী: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে নীলফামারীতে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজামান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নুঝাত তাসনীম আওনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ আব্দুল্লাহ্-আল- মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) এ.বি.এম. ফয়জুল ইসলাম। আলোচনা সভা শেষে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং পরিবেশ বিষয়ক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নীলফামারীতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণী

বিস্তারিত....

Top