Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। - Gono television is the Bangladesh Government Approved 24/7 News Based TV Channel and Most Reliable News Source and Leading 24/7 News Based TV Channel in Bangladesh, It also the Most Popular News Media for Bangaldesh and Bengali Audience worlwide since 2016.

সংবাদ শিরোনামঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসাশিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন এনসিপি নেতারা আমরা বিএনপিকে এখনই আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না: সারজিস আলম জুলাই হত্যার বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারসহ ৯ দাবি অল্টারনেটিভসের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বিশ্বজুড়ে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনহীন স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আমি চাইব না বাংলাদেশে আর কেউ গুম হোক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনি দুর্বলতায় হচ্ছে না অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অভিনেত্রী দিয়া মির্জার গোপন ভিডিও ফাঁস, তোলপাড় নেটদুনিয়া! অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার গার্মেন্টস শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি শ্রমিক নেতা কবির হোসেনের

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া এখনো প্রায় ১৪০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সন্ধানে তৃতীয় দিনও উদ্ধারকারী দলগুলো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ এগোলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

নেপালি পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার ঢল ও ভূমিধসের পর এই বিপর্যয় ঘটে। এতে বাড়িঘর, সড়ক, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত নেপালে থাকা ২৯০ জন ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ৮৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ত্রিশূলী-১ প্রকল্পের ৬৩ জন কর্মী এবং তামিলনাড়ুর ২১ জন রয়েছেন।

 

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, বন্যার পর প্রায় ৩০০ ভারতীয় পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো ১৭৮ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন।

 

নেপাল ও তিব্বতে মিলিয়ে মোট ৮২৬ জন নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারত ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছেন।

 

নতুন বন্যার সতর্কতা চীনের

 

নেপালে ভয়াবহ বন্যার ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে চীন।

 

চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে একটি প্রাকৃতিক বাঁধের কারণে জলাধার বা ‘ব্যারিয়ার লেক’ তৈরি হয়েছে।

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২, নিখোঁজ ১৪০০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসাশিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দ।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে, এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন মাহদি, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল এবং এনসিপি’র সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

এ সময় এনসিপি নেতৃবৃন্দ জামিয়া ইউনুছিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুহতামিম ও জেলা হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা মুবারাকুল্লাহ, জামিয়ার মুহাদ্দিস ও জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মারুফ কাসেমী, জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরীফ উদ্দিন আফতাবী এবং জেলা হেফাজতে ইসলামের কোষাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাফিজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

 

সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মহব্বত অটুট রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসাশিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন এনসিপি নেতারা

বিএনপিকে এখনই আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর একটি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এনসিপি কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগরের সাংগঠনিক সমন্বয় সভা রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

 

সারজিস বলেন, ৬ মাস যেতে না যেতেই মানুষ কিন্তু বিএনপিকে নিয়ে অন্য কিছু চিন্তা করতে শুরু করেছে। আমরা সেই তুলনা এখনি করতে চাই না। আমরা বিএনপিকে আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ১৪’শ এর বেশি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়ে আরেকটা গণহত্যা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ হচ্ছে গণহত্যাকারী। আওয়ামী লীগ হচ্ছে খুনী। আওয়ামী লীগ হচ্ছে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া একটা নরপিশাচ। তাই আমরা বিএনপিকে এখনই আওয়ামী লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না। আগামীতেও করতে চাই না।

আমরা বিএনপিকে এখনই আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না: সারজিস আলম

 

সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার, জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমাধান, পরিবেশ সুরক্ষাসহ ৯টি দাবি জানিয়েছে ‘অল্টারনেটিভস’।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানী সেগুনবাগিচায় আয়োজিত ‘দেশের অবস্থা’ শীর্ষক প্রেস মিটে সংগঠনটির জাতীয় সাংগঠনিক কমিটির পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

 

প্রেস মিটে ৯ দফা দাবি ঘোষণা করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও প্ল্যাটফর্মটির সংগঠক মাহফুজ আলম।

 

অল্টারনেটিভসের পক্ষ থেকে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ ও জনগণের আন্দোলনের পরও প্রত্যাশিত ‘নতুন বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, কাঠামোগতভাবে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়নি, কেবল সরকারের পরিবর্তন হয়েছে।

 

এ অবস্থায় স্বাধীনভাবে কথা বলা, সংগঠিত হওয়া ও প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

 

অল্টারনেটিভসের ৯ দফা দাবি—

 

১. সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের রূপরেখা প্রণয়ন এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে ধনী-গরিবের বৈষম্য কমিয়ে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

 

২. জুলাই গণহত্যার বিচার, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়েছে।

 

৩. মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন ও এসআরবি আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে মানবাধিকার সুরক্ষা, নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

 

৪. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান, কুইক রেন্টাল ও অসম বিদ্যুৎ-জ্বালানি চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আমদানি, লুটেরা পুঁজিপতি ও বিদেশি কোম্পানি-নির্ভরতা কমানোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও জ্বালানি সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

 

৫. ‘স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা অধ্যাদেশ–২০২৫’ এবং ‘রোগী সুরক্ষা ও প্রতিকার অধ্যাদেশ–২০২৫’ আইন আকারে প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম সুলভ রাখা, মানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং ভারসাম্যপূর্ণ ওষুধনীতি প্রণয়নের দাবি রয়েছে।

 

৬. নারী কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, যৌন নিপীড়ন ও শিশু নিপীড়ন প্রতিরোধ, ভিন্নমত ও বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত এবং ‘সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ’ মোকাবেলায় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

 

৭. শ্রম কমিশনের সুপারিশ ও শ্রম আইন ২০২৬ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, বন্ধ কলকারখানা চালু, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনঃকর্মসংস্থানের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সার সংকট সমাধান, কৃষকদের দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এবং সরকারি পাটকল, চিনিকল ও অন্যান্য কারখানা বেসরকারি খাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে শ্রমিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

 

৮. শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে স্বাধীন শিক্ষা কমিশন গঠন, ছাত্র ও যুবসমাজের কর্মসংস্থান সংকট নিরসনে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, দলীয় পক্ষপাতমুক্ত স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা এবং বেসরকারি খাতে নিরাপদ ও জেন্ডার-সংবেদনশীল কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি ও চাকরির সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

 

৯. প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংসকারী উন্নয়ন প্রকল্প বাতিল, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীল প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জুলাই হত্যার বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারসহ ৯ দাবি অল্টারনেটিভসের

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুমের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত রাখতে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য—‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।

 

তিনি বলেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধগুলোর একটি। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে।

 

বাংলাদেশের বিগত সরকারের বিরুদ্ধে গুম-অপহরণের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করতে গুম-অপহরণের পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল। গুমের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর আটকে রাখতে গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল, যা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে।

 

তিনি জানান, ভবিষ্যতে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।

 

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু কোনো ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু জড়িয়ে থাকে। স্বজনদের দিন কাটে অনিশ্চয়তার মধ্যে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে শোক পালনেরও সুযোগ থাকে না।

 

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। তবে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের এখনও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। গুমের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বিশ্বজুড়ে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীতে অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাস চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে ঢাকায় অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে রাজধানীর যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে আয়োজিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

বৈঠকে ঢাকার যানজট পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফ্লাইওভারে যানবাহনের চাপ, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, বাস টার্মিনাল, পার্কিং সুবিধা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করা হবে।

 

ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে আগামী চার মাসের মধ্যে একটি অস্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, গাবতলী বাস টার্মিনালের পেছনের অংশ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়াতে সড়ক বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

রাজধানীর যানজট কমাতে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট গাবতলীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তও হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

 

এ ছাড়া এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাগুলোতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের আশপাশের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আগের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

সচিবালয়কেন্দ্রিক যানবাহনের চাপ কমাতে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুমোদনহীন স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমি হোম মিনিস্টার। আমি নিজেই এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের শিকার। আমি চাইব না বাংলাদেশে আর কেউ গুম হোক। আমরা এমন একটি আইন চাই, যাতে প্রত্যেক ভুক্তভোগী আদালতে যেতে পারে, বিচার পায় এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত হয়।

 

আন্তর্জাতিক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত প্রদর্শনী ও প্যানেল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রথম অধিবেশনে গুম কমিশন অধ্যাদেশ পাশ করা হয়নি, কারণ শুধু কমিশন গঠন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সরকার এমন একটি আইন সংসদে এনেছে, যেখানে গুমের শিকার ব্যক্তি বা তার পরিবার সরাসরি আদালতে গিয়ে বিচার চাইতে পারবে।

 

তিনি বলেন, গুম কত প্রকার, কোন অপরাধে কী শাস্তি হবে, তদন্ত করবে কারা, ভুক্তভোগীর কী কী অধিকার থাকবে—সবই আইনে নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে না পাওয়া গেলে তার উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তির অধিকার পাবেন এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও থাকবে।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, এই আইন নিয়ে যাদের মতামত আছে, তারা সংসদীয় কমিটিতে দিতে পারেন। আইন সংশোধনের সুযোগ সব সময় থাকবে। আমাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই।

র্যাব প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার বাহিনীটি বিলুপ্ত না করে জবাবদিহিমূলক সংস্কারের পথ নিয়েছে। তিনি বলেন, আধুনিক সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি এলিট ফোর্স দরকার। তবে আমরা তাদের জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি।

 

তিনি দাবি করেন, গত ছয় মাসে সরকার একটি ‘ভঙ্গুর বাহিনী’ উত্তরাধিকার হিসেবে পেলেও তাদের মনোবল ও নৈতিকতা পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

 

নিজের ৬১ দিনের গুমের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমার গুমের ৬১ দিন—তার যতটা মিনিট, যতটা মুহূর্ত কেটেছে, তার প্রত্যেকটা যদি আমি লিখে রাখতে পারতাম, তাহলে জাদুঘরের সংকলন হতো কোনো কিতাব। প্রতিটি মুহূর্তে মনে হতো যে আগামী ভোর কি আমি দেখব? সকালের নাশতা দেওয়া হলে বুঝতাম সকাল হয়েছে। আর নখের দাগ দিয়ে দেয়ালে সংখ্যা লিখে লিখে দিন গুনতাম।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল সেটি ছিল অত্যন্ত ছোট। তার বর্ণনা অনুযায়ী, কক্ষটি আনুমানিক পাঁচ ফুট বাই দশ ফুটের মতো ছিল। সেখানে একটি কম্বল ও পাতলা একটি বালিশ ছাড়া তেমন কোনো সুবিধা ছিল না।

 

কক্ষের এক কোণে প্রস্রাব-পায়খানার ব্যবস্থা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখান থেকে দুর্গন্ধ আসত। ওই পরিবেশে ঘুমাতেও সমস্যা হতো।

 

বক্তব্যে গুমের পর তাকে ভারতের শিলংয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় গাড়িতে করে নেওয়ার পর তাকে একটি নির্জন এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, সেখানে তাকে ফুটপাতে দাঁড় করিয়ে রেখে বলা হয়েছিল, ‘ইউ আর ফ্রি নাও।’ পরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে তিনি পুলিশকে খবর দেওয়ার অনুরোধ করেন। পুলিশ এসে তাকে একটি বিট হাউসে নিয়ে যায় এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

আমি চাইব না বাংলাদেশে আর কেউ গুম হোক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জীবন রক্ষায় যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ পাহাড় সমান। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার, অপারেশনের পর শরীরে সার্জিক্যাল রুমাল কিংবা চিকিৎসা সরঞ্জাম রেখে দেয়ার। আবার কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ রোগীকে গুমের হুমকি দেয়ার।

 

এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও চিকিৎসকের পেশাগত অসদাচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অন্যতম দায়িত্ব বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি)। তবে প্রশ্ন উঠছে, অভিযোগ আসলেই কি প্রতিকার মেলে?

 

এ বিষয়ে বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. লিয়াকত হোসেন বলেন, এ বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।

 

বিএমডিসির কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে তা কয়েক ধাপের মধ্য দিয়ে তদন্ত করা হয়। সব মিলিয়ে লেগে যায় মাসের ঘর থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত।

 

তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালের আইন এবং প্রবিধানে আমাকে যেভাবে বলে দেয়া হয়েছে, এর বাইরে গিয়ে আমি কোনো বিচার করতে পারব না। আইনি কাঠামোর মধ্যে না থাকলে, যার বিরুদ্ধে আপনি বিচার করবেন, সে কোর্টে গিয়ে আপনার বিরুদ্ধে মামলা করবে। বিএমডিসির বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার দেয়া আছে আইনে।

 

২০২৬ সালের পর থেকে বিএমডিসিতে মোট অভিযোগ এসেছে ২১৫টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১১২টির। বিভিন্ন ধাপে শাস্তি দেয়া হয়েছে ৩৯ জনকে। আর তদন্ত চলছে ১০৩টি অভিযোগ নিয়ে।

 

দেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ১১২। এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক দেড় লাখ আর ডেন্টাল চিকিৎসক ১৬ হাজারের বেশি। সবমিলিয়ে এত সংখ্যক ডাক্তারকে তদারকি করার জন্য বিএমডিসিতে কাজ করছেন মাত্র ৩০ জন। অথচ কর্মভার আর কাজের পরিধি বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ গুণ।

 

তবে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই আইন দ্বারা আপনি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। যার কোনো ক্ষমতা নেই, মানুষ কিন্তু বিএমডিসির কাছে আর যাচ্ছে না। হতাশায় ফিরে যাচ্ছে। আমরা এই আইনটাকে যুগোপযোগী করার জন্য কিন্তু চেষ্টা করছি। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের বেশ কয়েকটি মিটিং হয়েছে।

 

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্যখাতের এসব অনিয়ম আর বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা দূর করা এত সহজ নয়।

 

সব মিলিয়ে বড় পরিবর্তন আনতে পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত ১৭ বছরের জঞ্জাল স্বাস্থ্যকে আসলে একটা দুর্বল খাতে পরিণত করেছে। আমি আপনাদের মেনেই বলতেছি, একটু টাইম লাগবে। বাট ইট ইমপ্রুভ। যেহেতু আমাদের সৎ ইচ্ছা আছে, ইমপ্রুভ হবে ইনশাআল্লাহ।

 

এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়ে পড়েন অভিযোগকারী। কারণ অভিযোগ তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত চিকিৎসক তার পেশায় বহাল থাকেন। আর ভুক্তভোগী পরিবারকে অপেক্ষা করতে হয় সিদ্ধান্তের জন্য। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই যদি দীর্ঘ সময় চলে যায়, সেই সময়ের ক্ষতিপূরণ কে দেবে?

আইনি দুর্বলতায় হচ্ছে না অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে বলিউডে পা রাখা অভিনেত্রী দিয়া মির্জা অভিনয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ। নানা ধরনের চরিত্রে এখনো নিয়মিত দেখা যায় তাকে।

 

তবে ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমার ‘মুঝে তুমসে মোহাব্বত হ্যায়’ গানটি দিয়াকে নতুনভাবে আলোচনায় এনেছিল।

 

ইমরান হাশমির সঙ্গে তার সেই গ্ল্যামারাস নাচ দর্শকের নজর কাড়লেও ক্যামেরার পেছনের অভিজ্ঞতা ছিল অভিনেত্রীর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই গানের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন দিয়া মির্জা। তিনি জানান, সেটে উপস্থিত শত শত পুরুষের সামনে তাকে অন্তর্বাস পরে নাচের দৃশ্যের শুটিং করতে হয়েছিল। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে তিনি বেশ দ্বিধায় ও অস্বস্তিতে ছিলেন।দিয়ার ভাষ্য, তখন নিজের শরীর নিয়ে খুব একটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না তিনি। রক্ষণশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে এমন পোশাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো তার জন্য সহজ ছিল না।

 

তবে শেষ পর্যন্ত সেই অভিজ্ঞতাই তার জীবনে আত্মবিশ্বাস ও মুক্তির অনুভূতি এনে দেয়।

 

দিয়া বলেন, এই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা আমাকে এমনভাবে মুক্ত করেছিল, যা আমি কখনো আশা করিনি। নৃত্যপরিচালক বৈভবী মার্চেন্টের জন্যই আমি এই গানের শুটিং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করতে পেরেছিলাম। সেটে যারা কাজ করছিলেন, প্রত্যেকেই আমাকে খুব নিরাপদ অনুভব করিয়েছিলেন।

 

পোশাক ও শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন নারী হিসেবে এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন কাজ। কারণ শত শত মানুষের সামনে তাকে অন্তর্বাস পরে ক্যামেরার সামনে নাচতে হয়েছিল।

 

তবে কেন শেষ পর্যন্ত তিনি সেই দৃশ্যে কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অভিনেত্রী। তার মতে, একজন অভিনেতার জন্য চরিত্রের প্রয়োজন এবং চরিত্রের ভেতরের সত্যকে বোঝা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

দিয়া বলেন, বিষয়টি অস্বস্তিকর হতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। কারণ আমি বুঝতে পেরেছিলাম, একজন অভিনেতার জন্য চরিত্রের সত্যিটা খুঁজে বের করা জরুরি এবং সেই চরিত্রের মাধ্যমে কী প্রকাশ করা হচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘরে ৫০০ জন মানুষ থাকুক বা ১ হাজার জন, সেটা আর আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।

 

হায়দরাবাদে রক্ষণশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠা দিয়া জানান, একসময় নিজের শরীর নিয়ে তার যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। কিন্তু ‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমার ওই গানের শুটিংই তাকে নিজের প্রতি আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

 

দর্শকের কাছে এটি হয়তো ছিল একটি গ্ল্যামারাস গানের দৃশ্য। তবে দিয়া মির্জার কাছে সেই অভিজ্ঞতা ছিল নিজের সীমাবদ্ধতা ভেঙে বেরিয়ে আসা, আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া এবং এক ধরনের মুক্তির অনুভূতির স্মরণীয় অধ্যায়।

অভিনেত্রী দিয়া মির্জার গোপন ভিডিও ফাঁস, তোলপাড় নেটদুনিয়া!

লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ একটি ইউনিট গঠন করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য দিলে ১০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরষ্কার দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

 

আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গেল তিন মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। এসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যরা কর্মক্ষেত্রে তাদের প্রযুক্তিগত সহায়তার বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নানা বিষয়ের চাহিদার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ বিশেষভাবে কাজ করবে। অস্ত্র উদ্ধারে সহায়তাকারীদের উৎসাহিত করতে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ধীরে ধীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার

গার্মেন্টস শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি শ্রমিক নেতা কবির হোসেনের

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

একজন শ্রমিকের জন্য তার পরিবার নিয়ে টিকে থাকতে হলে বর্তমানে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মোঃ কবির হোসেন। তিনি জানান, বর্তমান বাজারদর ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে এই পরিমাণের চেয়ে কম বেতনে কোনো পরিবার চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

 

সম্প্রতি গণ টেলিভিশনের সাথে আলাপ কালে মোঃ কবির হোসেন বলেন, “যে হারে জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাসা ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে একজন সাধারণ শ্রমিকের পক্ষে বর্তমান মজুরি দিয়ে মাস চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যদের তিন বেলা খাবার, চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা এবং বাসা ভাড়া মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।”

 

তিনি আরও বলেন, “একজন শ্রমিকের সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা বেতন হলে তবেই তার পক্ষে পরিবার নিয়ে সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব। এর নিচে বেতন দেওয়া হলে তা হবে শ্রমিকদের প্রতি চরম অবিচার, কারণ এর চেয়ে কম আয়ে এখন আর কোনোভাবেই টিকে থাকা সম্ভব নয়।”

 

শ্রমিকদের এই ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে অবিলম্বে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মজুরি কাঠামো ঘোষণা করার জন্য সরকার ও মালিকপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান এই শ্রমিক নেতা।

গার্মেন্টস শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি শ্রমিক নেতা কবির হোসেনের

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

খেলাধুলা

মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে ভূল্লীতে দিনব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত।

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ভূল্লী উপজেলার ১ নং বড়গাঁও ইউনিয়নের কাচারি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে কাচারি বাজার যুব সংঘের উদ্দ্যোগে দিনব্যাপী এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

টুর্নামেন্টকে ঘিরে সকাল থেকেই খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকার ফুটবল দল এতে অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি ম্যাচে খেলোয়াড়দের দারুণ নৈপুণ্যে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়।

 

খেলা দেখতে মাঠের চারপাশে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী দর্শক। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে পুরো মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

 

আয়োজকরা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নিয়মিত এমন আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরি হবে এবং যুবসমাজ খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী হবে। ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের মাঠমুখী করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।

 

টুর্নামেন্ট শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ নুর আলম বাবু, বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক ও স্বপ্ন গ্রুপ এর পরিচালক মামুনুর রশিদ মামুন, ছাত্রদল নেতা সুবাহান।

 

এ সময় আয়োজক কমিটির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, খেলোয়াড় ও বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী উপস্থিত ছিলেন।

 

টুর্নামেন্টে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন হয় আসিফ একাদশ (ভূল্লী) ও রানার্সআপ হয় কাচারি বাজার একাদশ।

মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে ভূল্লীতে দিনব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত।

গাইবান্ধায় ফার্মাসিউটিক্যালস প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধা জেলা স্টেডিয়ামে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে শুরু হয়েছে ‘গাইবান্ধা ফার্মাসিউটিক্যালস প্রিমিয়ার লীগ (জিপিপিএল) ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬’। শুক্রবার (২১শে আগস্ট) বিকেলে জেলা স্টেডিয়াম চত্বরে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)-এর নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও পৌর বিএনপির সভাপতি শহীদুজ্জামান শহীদ। উদ্বোধনী ক্রীড়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীর আলম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আশরাফ হোসেন, শাহাদত হোসেন সাগর, খন্দকার রবিউল ইসলাম, মাসুদ রানা ও সেলিম মিয়া।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বক্তারা বলেন, “সুস্থ দেহ ও সুন্দর মন গঠনে এবং যুবসমাজকে মাদক ও যাবতীয় অন্যায় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। ফার্মাসিউটিক্যালস পেশাজীবীদের দিনভর কর্মব্যস্ততার মাঝে এই টুর্নামেন্ট কেবল মানসিক প্রশান্তিই দেবে না, বরং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করতে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখবে।”

উদ্বোধনী ম্যাচে অংশ নেওয়া দলগুলোকে উৎসাহ দিতে মাঠে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও স্থানীয় বিপুল সংখ্যক ক্রীড়ামোদী দর্শক উপস্থিত ছিলেন। পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে বিরাজ করছিল টানটান উত্তেজনা ও উৎসবের আমেজ।

গাইবান্ধায় ফার্মাসিউটিক্যালস প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

গাইবান্ধায় অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার, সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবের উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সিপিসি-৩ গাইবান্ধা র‌্যাব-১৩ ক্যাম্পের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে এই সচেতনতা মুলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিপিসি-৩ ও র‌্যাব-১৩ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ রেজাউল হকের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাজহারুল মান্নান । এছাড়াও বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী, রেড ক্রিসেন্ট ও রোভার স্কাউটসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দেড় ঘন্টাব্যাপী মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দেয়।

 

মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধি সহ সকল পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে বিপদগামী মাদকাসক্ত তরুণদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

অপরদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়, সরকারের নির্দেশনায় মাদক ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনাসহ মাদক ও সামাজিক অপরাধ নির্মুলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়।

 

সভা শেষে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহনকরা শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলার সামগ্রী বিতরন করা হয়।

গাইবান্ধায় অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার, সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুতে শোকাহত লিওনেল মেসি যখন পরিবারের পাশে থাকতে আর্জেন্টিনায়, তখন মাঠে নেমে বন্ধুর পাশে দাঁড়ালেন রদ্রিগো দে পল। নিজের জার্সির নিচে মেসির ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলতে নেমেছিলেন ইন্টার মায়ামির এই আর্জেন্টাইন তারকা। গোল করেই সেই জার্সি প্রকাশ করেন এবং আবেগঘনভাবে মেসির প্রয়াত বাবাকে শ্রদ্ধা জানান।

 

শনিবারের দিনটি মেসি পরিবারের জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। আর্জেন্টিনার রোজারিওতে ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ইন্টার মায়ামির কাছ থেকে ছুটি নিয়ে পরিবারের পাশে থাকতে রোজারিওতে ফিরে যান মেসি।

 

এ কারণে লিগস কাপের গ্রুপ পর্বে মনতেরের বিপক্ষে ম্যাচে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির অনুপস্থিতিতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হয় অন্যদের। সেই দায়িত্বের অন্যতম একজন ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু দে পল।

 

ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল ইন্টার মায়ামি। একপর্যায়ে বক্সের বাইরে থেকে বজ্রগতির এক শটে দারুণ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন দে পল।

 

গোল করার পরই নিজের জার্সি খুলে ফেলেন তিনি। তখন প্রকাশ পায় আসল চমক। নিজের জার্সির নিচে তিনি পরে ছিলেন মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি। গোল করার পর সেই জার্সি দেখিয়ে মেসি ও তাঁর পরিবারের প্রতি ভালোবাসা ও সমবেদনা জানান দে পল।

 

মেসির কঠিন সময়ে তাঁর পাশে থাকার এটি ছিল দে পলের আবেগঘন এক বার্তা। মাঠের বাইরেও দুজনের বন্ধুত্ব বেশ গভীর। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে শুরু করে ইন্টার মায়ামি—দুই জায়গাতেই মেসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে দে পলের।

 

মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও জার্মান বেরতেরামে না থাকায় মনতেরের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির জন্য ম্যাচটি আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল। সেই পরিস্থিতিতে ৩২ বছর বয়সী দে পল সামনে থেকে দায়িত্ব নেন। গোল করে দলকে যেমন এগিয়ে দেন, তেমনি বন্ধুর পরিবারের কঠিন সময়েও পাশে থাকার বার্তা দেন।

 

মেসির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর ফুটবল বিশ্বের অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। দে পলের এই শ্রদ্ধা যেন সেই শোকের মধ্যেই বন্ধুত্বের আরেকটি গভীর উদাহরণ হয়ে থাকল।

 

মেসি যখন রোজারিওতে বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে পরিবারের সঙ্গে, তখন তাঁর হয়ে মাঠে লড়লেন দে পল। আর গোলের পর মেসির ১০ নম্বর জার্সি দেখিয়ে জানিয়ে দিলেন—কঠিন সময়ে বন্ধুকে তিনি একা হতে দেবেন না।

মেসির জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন দে পল, গোল করে উৎসর্গ করলেন মেসির প্রয়াত বাবাকে

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা ছিলেন নেইমার জুনিয়র। জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া এই তারকা এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন। কোপা সুদামেরিকানায় সান্তোসের জয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ব্রাজিলের জার্সিতে আর মাঠে নামার ইচ্ছা নেই।

 

ভেনেজুয়েলার ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নেইমার বলেন, জাতীয় দলের হয়ে তার পথচলা শেষ হয়েছে। দেশের জার্সির জন্য নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

নেইমারের ভাষায়, ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানগুলোর একটি। তবে এখন তিনি মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

 

২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। কিন্তু শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় দলকে। সেই ম্যাচে শেষদিকে পেনাল্টি থেকে গোল করলেও হার এড়ানো সম্ভব হয়নি। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন নেইমার। পরে জানা যায়, সেটিই ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ২০১০ সালে ব্রাজিল জাতীয় দলে অভিষেক হয় নেইমারের। এরপর ১৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি করেছেন ৮০টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫৯টি গোল। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করলেও বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল তার।

 

জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ফুটবলে নিজের যাত্রা চালিয়ে যেতে চান নেইমার। ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে সান্তোসের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। এই জয়ের ফলে কোপা সুদামেরিকানার শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলের ক্লাবটি। পরবর্তী পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইকুয়েডরের মাকারা।

 

এদিকে সম্প্রতি সান্তোস ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের সঙ্গে নেইমারের আচরণ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেটিও নাকচ করেছেন এই ফরোয়ার্ড। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, চ্যাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিনি তরুণ দুই ফুটবলার গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো ও জোয়াও আনানিয়াসের সমালোচনা করেন এবং তাদের নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন।

 

তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন নেইমার। তার দাবি, ম্যাচের পর তিনি শুধু দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেছেন এবং সহজে পয়েন্ট হারানো নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। অধিনায়ক হিসেবে দলের ভুলগুলো তুলে ধরা নিজের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই ধরনের বক্তব্য অন্য জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়রাও দিয়েছিলেন বলে জানান ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।

ব্রাজিল অধ্যায়ের ইতি টানলেন নেইমার!

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে যাওয়ার পথে দেয়া অনুপ্রেরণামূলক ভাষণের একটি ভিডিও প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর ভিডিওটির একটি অংশ ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে মেসির বলা ‘সবকিছু ভুলে যাও’ বাক্যটির গোপন অর্থ খুঁজতে শুরু করেছিলেন অনেকে। তবে সম্প্রতি পুরো ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর সেই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে।

 

মাঠে নামার আগে সতীর্থদের উদ্দেশে মেসি বলেন, ‘চলো সবাই, শান্ত থাকো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা যেন শান্ত থাকি। শুধু খেলায় মনোযোগ দাও। সবকিছু ভুলে যাও। শুধু খেলো, খেলায় মনোযোগ দাও। চলো।’

 

তার এই বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল চাপমুক্ত থেকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটি খেলা।

 

মাঠে প্রবেশের সময় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে কৌশলগত কিছু কথোপকথনও শোনা যায়। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজকে উদ্দেশ করে ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো বলেন, প্রতিপক্ষের আক্রমণে কীভাবে চাপ সৃষ্টি করতে হবে এবং লামিন ইয়ামালকে সামলানোর পরিকল্পনা নিয়ে।

 

লিসান্দ্রো ‘লিচা’ মার্টিনেজ দিবুকে সতর্ক করে বলেন, প্রতিপক্ষ ভেতরে ঢুকে শট নেয়ার চেষ্টা করবে, তাই সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পরে লিচা নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে বলেন, ‘পুরো ম্যাচ জুড়ে তাকে আটকে রাখবে।’ দিবুকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি বল নিশ্চিতভাবে ধরবে, মানসিকভাবে শক্ত থাকো।’

 

এ সময় মেসি আবারও ডিফেন্ডারদের বলেন, প্রতিপক্ষ আক্রমণে এলে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও এনজো ফার্নান্দেজ যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে সামনে উঠে না যান। সবশেষে কুতি রোমেরো দিবুকে বলেন, ‘আজ তোমার দিন।’ জবাবে দিবুর আত্মবিশ্বাসী উত্তর ছিল, ‘আজ আমার দিন। আজ ইতিহাসে লেখা থাকবে।’

 

এরপর দুই দল মাঠে প্রবেশ করে এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। তবে ম্যাচ শুরু হওয়ার পর উত্তেজনা বাড়তে থাকে। খেলার বিভিন্ন মুহূর্তে তীব্র লড়াই ও বাকবিনিময় দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টিনাকে।

 

ভিডিওটি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক সম্পর্কে জানতে চাইলে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখি না। এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। আপনারা কী নিয়ে বলছেন, সে সম্পর্কেও আমার কোনো ধারণা নেই।’

ফাইনালের আগমুহূর্তে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কী হচ্ছিল? স্পষ্ট করলো দেশটির গণমাধ্যম

বিস্তারিত....

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

গানে থাকা দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরানোর সুযোগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরানো হলেও এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করতে গোপন প্রযুক্তিগত চিহ্ন বহাল থাকবে।

 

গুগল নতুন একটি সেটিং চালু করেছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা জেমিনির ‘ন্যানো ব্যানানা’ ইমেজ জেনারেশন মডেল দিয়ে তৈরি ছবির দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরাতে পারবেন। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে জেমিনি ও ‘ফ্লো’ প্ল্যাটফর্মে এ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। শিগগিরই গুগলের ‘সার্চ এআই মোডেও’ এটি চালু হতে পারে।

 

শুধু ছবিই নয়, এআই দিয়ে তৈরি অন্যান্য কনটেন্টের ক্ষেত্রেও ওয়াটারমার্ক সরানোর সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে গুগলের। জেমিনি ‘ওমনি’ দিয়ে তৈরি ভিডিও এবং ‘লিরিয়া’ দিয়ে তৈরি গান থেকেও দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরাতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।

 

স্থানীয় আইনের ওপর নির্ভর করবে ওয়াটারমার্ক অপসারণ

 

গুগল জানিয়েছে, যেসব দেশ বা অঞ্চলে আইন অনুযায়ী এআই-নির্মিত কনটেন্টে ওয়াটারমার্ক প্রদর্শন বাধ্যতামূলক, সেখানে এ সুবিধা পাওয়া যাবে না।

 

তবে দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরানো গেলেও এআই-নির্মিত কনটেন্ট থেকে গোপন শনাক্তকারী সরাবে না গুগল। প্রতিষ্ঠানটি কনটেন্টের উৎস ও পরিচয় শনাক্ত করতে ‘সিন্থআইডি’ নামের অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক প্রযুক্তির পাশাপাশি ‘সিটুপিএ’ মেটাডেটা ব্যবহার করবে।

ওয়াটারমার্ক সরালেও শনাক্ত করা যাবে এআই কনটেন্ট

 

দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরিয়ে ফেললেই কোনো কনটেন্ট এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত হয়েছে—এটি শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে যাবে না। গুগলের দাবি, ব্যবহারকারীরা চাইলে জেমিনিকে জিজ্ঞেস করেও জানতে পারবেন কোনো ছবি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত হয়েছে কি না।

 

জেমিনি ছবির গোপন উৎস-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে এবং যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে ‘সিন্থআইডি’ শনাক্তকারী খুঁজে বের করতে পারে। এর ফলে দৃশ্যমানভাবে কনটেন্টে কোনো চিহ্ন না থাকলেও পেছনের প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটি এআই-নির্মিত কি না, তা শনাক্ত করার সুযোগ থাকবে।

 

এআই কনটেন্ট নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

 

এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও, গানসহ বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে কৃত্রিমভাবে তৈরি কনটেন্ট যেন সহজে শনাক্ত করা যায়, সে বিষয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপও বাড়ছে।

 

একই সঙ্গে ব্যবহারকারীরা যেন নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এআই-নির্মিত কনটেন্টের দৃশ্যমান উপস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, সেই দাবিও রয়েছে। গুগলের নতুন সিদ্ধান্তকে দৃশ্যমান লেবেলিং ও গোপন শনাক্তকরণ—এই দুই ব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্য তৈরির একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জেমিনির এআই কনটেন্ট থেকে ওয়াটারমার্ক সরানোর সুযোগ দিচ্ছে গুগল

বিনোদন

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে বলিউডে পা রাখা অভিনেত্রী দিয়া মির্জা অভিনয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ। নানা ধরনের চরিত্রে এখনো নিয়মিত দেখা যায় তাকে।

 

তবে ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমার ‘মুঝে তুমসে মোহাব্বত হ্যায়’ গানটি দিয়াকে নতুনভাবে আলোচনায় এনেছিল।

 

ইমরান হাশমির সঙ্গে তার সেই গ্ল্যামারাস নাচ দর্শকের নজর কাড়লেও ক্যামেরার পেছনের অভিজ্ঞতা ছিল অভিনেত্রীর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই গানের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন দিয়া মির্জা। তিনি জানান, সেটে উপস্থিত শত শত পুরুষের সামনে তাকে অন্তর্বাস পরে নাচের দৃশ্যের শুটিং করতে হয়েছিল। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে তিনি বেশ দ্বিধায় ও অস্বস্তিতে ছিলেন।দিয়ার ভাষ্য, তখন নিজের শরীর নিয়ে খুব একটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না তিনি। রক্ষণশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে এমন পোশাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো তার জন্য সহজ ছিল না।

 

তবে শেষ পর্যন্ত সেই অভিজ্ঞতাই তার জীবনে আত্মবিশ্বাস ও মুক্তির অনুভূতি এনে দেয়।

 

দিয়া বলেন, এই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা আমাকে এমনভাবে মুক্ত করেছিল, যা আমি কখনো আশা করিনি। নৃত্যপরিচালক বৈভবী মার্চেন্টের জন্যই আমি এই গানের শুটিং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করতে পেরেছিলাম। সেটে যারা কাজ করছিলেন, প্রত্যেকেই আমাকে খুব নিরাপদ অনুভব করিয়েছিলেন।

 

পোশাক ও শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন নারী হিসেবে এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন কাজ। কারণ শত শত মানুষের সামনে তাকে অন্তর্বাস পরে ক্যামেরার সামনে নাচতে হয়েছিল।

 

তবে কেন শেষ পর্যন্ত তিনি সেই দৃশ্যে কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অভিনেত্রী। তার মতে, একজন অভিনেতার জন্য চরিত্রের প্রয়োজন এবং চরিত্রের ভেতরের সত্যকে বোঝা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

দিয়া বলেন, বিষয়টি অস্বস্তিকর হতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। কারণ আমি বুঝতে পেরেছিলাম, একজন অভিনেতার জন্য চরিত্রের সত্যিটা খুঁজে বের করা জরুরি এবং সেই চরিত্রের মাধ্যমে কী প্রকাশ করা হচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘরে ৫০০ জন মানুষ থাকুক বা ১ হাজার জন, সেটা আর আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।

 

হায়দরাবাদে রক্ষণশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠা দিয়া জানান, একসময় নিজের শরীর নিয়ে তার যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। কিন্তু ‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমার ওই গানের শুটিংই তাকে নিজের প্রতি আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

 

দর্শকের কাছে এটি হয়তো ছিল একটি গ্ল্যামারাস গানের দৃশ্য। তবে দিয়া মির্জার কাছে সেই অভিজ্ঞতা ছিল নিজের সীমাবদ্ধতা ভেঙে বেরিয়ে আসা, আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া এবং এক ধরনের মুক্তির অনুভূতির স্মরণীয় অধ্যায়।

অভিনেত্রী দিয়া মির্জার গোপন ভিডিও ফাঁস, তোলপাড় নেটদুনিয়া!

শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় আত্মসমর্পন করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। আজবৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তিশা। শুনানি নিয়ে আদালত জামিনের আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক।গত ১২ জুলাই তিশাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়েছিল।

 

জামিন পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তানজিন তিশা বললেন, ২৭ হাজার টাকার একটা শাড়ি নাকি আত্মসাৎ করেছি। আমার ১৫ বছরের একটা ক্যারিয়ার। এটা কারোর কাছে কাম্য নয়, একটা শাড়ির জন্য আদালতে আসবো। আইনকে শ্রদ্ধা করি বলেই আদালতে এসেছি। তবে মামলায় অনেকগুলো মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। আমি শাড়ি আত্মসাৎ বা প্রতারণা এমন কিছুই করিনি।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটা কথা বলতে চাই, মামলার বাদী একজন নারী। তিনি নিজের স্বামীর ক্ষমতা দেখিয়ে আমার সঙ্গে এটা (মামলা) করেছে। অনেক ধরনের হুমকি দিয়েছে। আগামীতে সবকিছু তুলে ধরব। আমার নামে যে মামলা করেছে তাকে চিনি না।

 

এদিন তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন৷ এরপর তার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরে জামিন পেয়ে তিনি আদালত প্রাঙ্গন ছাড়েন। এসময় উৎসুক জনতা তাকে দেখতে ভীড় জমান।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে সেটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তানজিন তিশা। এ ঘটনায় ২০২৫ সালে অনলাইন ফ্যাশন পেজের এডমিন আমিনুল ইসলাম প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। ওই সময় আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিবি পুলিশকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে তানজিল তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন জমা দেন পুলিশ। সেই প্রতিবেদনের আদালত আমলে গ্রহণ করে গত ১২ জুলাই তিশাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়।

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন তানজিন তিশা

সাভার পৌর বিএনপির মরণোত্তর সম্মাননায় ভূষিত সাভার থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত মাহমুদুল হাসান আলাল

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

সাভার থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান প্রয়াত আলহাজ্ব মাহমুদুল হাসান আলালকে মরণোত্তর সম্মাননা স্মারকে ভূষিত করেছে সাভার পৌর বিএনপি।

 

 

 

১৩তম (ত্রয়োদশ) জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এর সাভার পৌরসভার ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মরহুমের স্মৃতি ও রাজনৈতিক অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাভার পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রয়াত মাহমুদুল হাসান আলালের পক্ষে ঢাকা ১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর কাছ থেকে এই সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন তার ছোট ভাই সাভার থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আসন্ন বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন মন্ডল ।

 

দলীয় সূত্র মতে, সাভারের রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা, তৃণমূল বিএনপিতে দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব এবং বিরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে সর্বসাধারণের সেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই মরণোত্তর সম্মাননা জানানো হয়।

 

সম্মাননা স্মারক গ্রহণকালে মোঃ আনোয়ার হোসেন মন্ডল সাভার পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সাথে তিনি তার প্রয়াত ভাইয়ের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করেন।

সাভার পৌর বিএনপির মরণোত্তর সম্মাননায় ভূষিত সাভার থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত মাহমুদুল হাসান আলাল

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগের রাতে সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং দলের নেপথ্যে কাজ করা সদস্যদের সঙ্গে তোলা একটি দলীয় ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই দল এমন এক ইতিহাস গড়েছে, যা কখনো মুছে ফেলা যাবে না।

 

নিউ জার্সিতে ফাইনালের আগে তোলা ছবিতে ২৬ সদস্যের খেলোয়াড়দলের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ, চিকিৎসক, সরঞ্জামকর্মী, রাঁধুনি, কর্মকর্তাসহ আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও উপস্থিত ছিলেন। ফাইনালের আগে এটিই ছিল পুরো দলের শেষ আনুষ্ঠানিক দলীয় ছবি।

 

ছবির ক্যাপশনে মেসি লেখেন, গত কয়েক বছরের সবচেয়ে মূল্যবান অর্জন শুধু শিরোপা নয়, বরং সতীর্থদের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত, একসঙ্গে লড়াই করা, কঠিন সময় পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো এবং প্রতিটি যাত্রাকে উপভোগ করা।

 

তিনি দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আগামীকাল যা-ই ঘটুক না কেন, এই দল এমন এক ইতিহাস লিখেছে, যা আমরা কখনো ভুলব না এবং কেউ মুছতেও পারবে না।’ একই সঙ্গে তিনি সমর্থকদেরও আর্জেন্টিনার পাশে থাকার আহ্বান জানান।

 

স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে মেসির ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে পরাজয়ের পর ২০২২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পান তিনি। এবার ৩৯ বছর বয়সে সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচে টানা দ্বিতীয়বারের মতো আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।

 

চলতি বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পথে বড় ভূমিকা রেখেছেন মেসি। এখন পর্যন্ত তিনি করেছেন ৮ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৪টি গোল। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল না পেলেও আর্জেন্টিনার দুই গোলেই ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

 

বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার লক্ষ্য চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা এবং ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়া। অন্যদিকে, স্পেন চাইছে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি জিততে।

ফাইনালের আগে মেসির আবেগঘন বার্তা

প্রেমের টানে পাকিস্তান থেকে শরীয়তপুরের জাজিরায় এসেছেন মো. মোজাম্মেল হোসাইন নামে এক যুবক। গত শনিবার (১১ জুলাই) পাকিস্তানের লাহোর থেকে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের স্টাপল্টন শিকদার কান্দি এলাকায় তার প্রেমিকা তানজিলা আক্তারের বাড়িতে আসেন। পরে স্থানীয় ইমামের মাধ্যমে শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।

 

ভিনদেশি যুবকের এমন প্রেমকাহিনি ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্য। তবে ভালোবাসার এই গল্পের পাশাপাশি স্থানীয়দের একাংশের মনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগও। তানজিলাকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার আগে পুরো বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তানজিলার সঙ্গে পরিচয় হয় পাকিস্তানের লাহোরের বাসিন্দা উর্দুভাষী মোজাম্মেল হোসাইনের। তানজিলা মজিবর শিকদারের একমাত্র মেয়ে। পরিচয়ের পর নিয়মিত চ্যাটিং ও ভিডিও কলের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

দীর্ঘ চার বছরের সেই সম্পর্ককে পরিণতি দিতে গত ১১ জুলাই শনিবার লাহোর থেকে জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের রহিম উদ্দিন মালাই মৃধাকান্দি গ্রামের স্টাপল্টন শিকদার কান্দি এলাকায় তানজিলার বাড়িতে এসে হাজির হন মোজাম্মেল। পরে জাজিরায় তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

 

তানজিলার মা আসমা আক্তার এ বিয়ে নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, ছেলের পরিবারের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। এত দূরে মেয়েকে বিয়ে দিতে কিছুটা খারাপ লাগলেও তাদের মনে কোনো ভয় বা শঙ্কা নেই।

 

তবে পরিবারের এই স্বস্তির বিপরীতে প্রতিবেশী ও স্বজনদের একাংশের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ। তানজিলার ফুফু রাত্রি আক্তার ও চাচা তোফাজ্জল শিকদার বলেন, ইদানীং প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়েদের বিদেশে পাচারের নানা খবর পাওয়া যাচ্ছে। ছেলের পরিবারের কোনো অভিভাবক উপস্থিত না থাকায় এভাবে একটি মেয়েকে পাকিস্তানে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

 

এ কারণে পুরো বিষয়টি যাচাই করে প্রশাসনের নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

স্থানীয় কয়েকজন বলেন, প্রেমের টানে পাকিস্তান থেকে যুবকের জাজিরায় ছুটে আসার ঘটনা এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চার বছরের প্রেম শেষ পর্যন্ত দুই দেশের দুই তরুণ-তরুণীকে এক ছাদের নিচে এনেছে। তবে নববধূকে নিয়ে পাকিস্তানে যাত্রার আগে সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

জাজিরা থানার ওসি সালেহ্ আহম্মদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নয়। দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে তাদের পাসপোর্ট, ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। তদন্তে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রেমের টানে শরীয়তপুরে পাকিস্তানি যুবক

বিস্তারিত....

মতামত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসাশিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দ।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে, এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন মাহদি, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল এবং এনসিপি’র সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

এ সময় এনসিপি নেতৃবৃন্দ জামিয়া ইউনুছিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুহতামিম ও জেলা হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা মুবারাকুল্লাহ, জামিয়ার মুহাদ্দিস ও জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মারুফ কাসেমী, জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরীফ উদ্দিন আফতাবী এবং জেলা হেফাজতে ইসলামের কোষাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাফিজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

 

সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মহব্বত অটুট রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসাশিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন এনসিপি নেতারা

বিএনপিকে এখনই আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর একটি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এনসিপি কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগরের সাংগঠনিক সমন্বয় সভা রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

 

সারজিস বলেন, ৬ মাস যেতে না যেতেই মানুষ কিন্তু বিএনপিকে নিয়ে অন্য কিছু চিন্তা করতে শুরু করেছে। আমরা সেই তুলনা এখনি করতে চাই না। আমরা বিএনপিকে আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ১৪’শ এর বেশি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়ে আরেকটা গণহত্যা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ হচ্ছে গণহত্যাকারী। আওয়ামী লীগ হচ্ছে খুনী। আওয়ামী লীগ হচ্ছে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া একটা নরপিশাচ। তাই আমরা বিএনপিকে এখনই আওয়ামী লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না। আগামীতেও করতে চাই না।

আমরা বিএনপিকে এখনই আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না: সারজিস আলম

গার্মেন্টস শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি শ্রমিক নেতা কবির হোসেনের

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

একজন শ্রমিকের জন্য তার পরিবার নিয়ে টিকে থাকতে হলে বর্তমানে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মোঃ কবির হোসেন। তিনি জানান, বর্তমান বাজারদর ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে এই পরিমাণের চেয়ে কম বেতনে কোনো পরিবার চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

 

সম্প্রতি গণ টেলিভিশনের সাথে আলাপ কালে মোঃ কবির হোসেন বলেন, “যে হারে জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাসা ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে একজন সাধারণ শ্রমিকের পক্ষে বর্তমান মজুরি দিয়ে মাস চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যদের তিন বেলা খাবার, চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা এবং বাসা ভাড়া মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।”

 

তিনি আরও বলেন, “একজন শ্রমিকের সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা বেতন হলে তবেই তার পক্ষে পরিবার নিয়ে সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব। এর নিচে বেতন দেওয়া হলে তা হবে শ্রমিকদের প্রতি চরম অবিচার, কারণ এর চেয়ে কম আয়ে এখন আর কোনোভাবেই টিকে থাকা সম্ভব নয়।”

 

শ্রমিকদের এই ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে অবিলম্বে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মজুরি কাঠামো ঘোষণা করার জন্য সরকার ও মালিকপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান এই শ্রমিক নেতা।

গার্মেন্টস শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি শ্রমিক নেতা কবির হোসেনের

নীলফামারীতে দলিল লেখকদের সাতদফা দাবী বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলামঃ দলিল লেখক সমিতির সাত দফা দাবী বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসক মাধ্যম এই স্মারকলিপি প্রেরণ করা হয়। এরআগে শহরের শহীদ মিনার এলাকাস্থ দলিল লেখক সমিতির জেলা কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হন দলিল লেখকরা। সংগঠনের সভাপতি শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সভায় প্রধান ছিলেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। অন্যান্যদের মধ্যে সমিতির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ্, দলিল লেখক আজগর আলী সরকার ও ডিমলা উপজেলার মাসুদ রানা বক্তব্য দেন।”স্মারকলিপিতে দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের

পেশাচ্যুত না করা, সম্মানিক পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ, লাইসেন্স প্রাপ্ত দলিল লেখক ব্যতীত অন্য কারো দলিল লেখনির সুযোগ না দেয়া। অনভিজ্ঞদের লাইসেন্স প্রদান না করা, সরকারি খরচে দলিল লেখকের বসার ব্যবস্থা ও নামাজের স্থান নির্ধারণ, দলিল লেখক কাউন্সিল গঠন এবং দলিল লেখকদের পেশাগত কারণে আসামী না করার উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী জানান, সাত দফা দাবী বাস্তবায়নে চলতি বছরের আটই ফেব্রুয়ারী ঢাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে একাত্মতা প্রকাশ করেন বিএনপি নেতারা। দাবি বাস্তবায়নে সারাদেশে লিফলেট বিতরণ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বলেন, আমরা চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে দলিল লেখকদের পাশে দাঁড়াবেন।”স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নুজহাত তাসনীম আওন।

নীলফামারীতে দলিল লেখকদের সাতদফা দাবী বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি 

এইচএসসি ও দাখিল উত্তীর্ণদের বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন মন্ডল অভিনন্দন বার্ত।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

এইচএসসি ও সমমানের দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন আসন্ন বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনপ্রিয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, সাভার থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক,ও বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোঃ আনোয়ার হোসেন মন্ডল।

 

এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে বলেন, “আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর। মেধা, অধ্যবসায় ও সততার মাধ্যমে তারা আগামী দিনে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

 

শিক্ষার্থীদের এই ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রেখে সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের এই কৃতিত্বপূর্ণ অর্জনের পেছনে অবদান রাখা সকল অভিভাবক ও শিক্ষকমণ্ডলীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

যেসব শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি, তাদের ভেঙে না পড়ে নতুন উদ্যোমে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন সাবেক এই ছাত্রনেতা।

এইচএসসি ও দাখিল উত্তীর্ণদের বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন মন্ডল অভিনন্দন বার্তা

বিস্তারিত....

সারাবাংলা

জীবন রক্ষায় যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ পাহাড় সমান। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার, অপারেশনের পর শরীরে সার্জিক্যাল রুমাল কিংবা চিকিৎসা সরঞ্জাম রেখে দেয়ার। আবার কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ রোগীকে গুমের হুমকি দেয়ার।

 

এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও চিকিৎসকের পেশাগত অসদাচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অন্যতম দায়িত্ব বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি)। তবে প্রশ্ন উঠছে, অভিযোগ আসলেই কি প্রতিকার মেলে?

 

এ বিষয়ে বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. লিয়াকত হোসেন বলেন, এ বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।

 

বিএমডিসির কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে তা কয়েক ধাপের মধ্য দিয়ে তদন্ত করা হয়। সব মিলিয়ে লেগে যায় মাসের ঘর থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত।

 

তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালের আইন এবং প্রবিধানে আমাকে যেভাবে বলে দেয়া হয়েছে, এর বাইরে গিয়ে আমি কোনো বিচার করতে পারব না। আইনি কাঠামোর মধ্যে না থাকলে, যার বিরুদ্ধে আপনি বিচার করবেন, সে কোর্টে গিয়ে আপনার বিরুদ্ধে মামলা করবে। বিএমডিসির বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার দেয়া আছে আইনে।

 

২০২৬ সালের পর থেকে বিএমডিসিতে মোট অভিযোগ এসেছে ২১৫টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১১২টির। বিভিন্ন ধাপে শাস্তি দেয়া হয়েছে ৩৯ জনকে। আর তদন্ত চলছে ১০৩টি অভিযোগ নিয়ে।

 

দেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ১১২। এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক দেড় লাখ আর ডেন্টাল চিকিৎসক ১৬ হাজারের বেশি। সবমিলিয়ে এত সংখ্যক ডাক্তারকে তদারকি করার জন্য বিএমডিসিতে কাজ করছেন মাত্র ৩০ জন। অথচ কর্মভার আর কাজের পরিধি বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ গুণ।

 

তবে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই আইন দ্বারা আপনি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। যার কোনো ক্ষমতা নেই, মানুষ কিন্তু বিএমডিসির কাছে আর যাচ্ছে না। হতাশায় ফিরে যাচ্ছে। আমরা এই আইনটাকে যুগোপযোগী করার জন্য কিন্তু চেষ্টা করছি। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের বেশ কয়েকটি মিটিং হয়েছে।

 

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্যখাতের এসব অনিয়ম আর বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা দূর করা এত সহজ নয়।

 

সব মিলিয়ে বড় পরিবর্তন আনতে পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত ১৭ বছরের জঞ্জাল স্বাস্থ্যকে আসলে একটা দুর্বল খাতে পরিণত করেছে। আমি আপনাদের মেনেই বলতেছি, একটু টাইম লাগবে। বাট ইট ইমপ্রুভ। যেহেতু আমাদের সৎ ইচ্ছা আছে, ইমপ্রুভ হবে ইনশাআল্লাহ।

 

এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়ে পড়েন অভিযোগকারী। কারণ অভিযোগ তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত চিকিৎসক তার পেশায় বহাল থাকেন। আর ভুক্তভোগী পরিবারকে অপেক্ষা করতে হয় সিদ্ধান্তের জন্য। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই যদি দীর্ঘ সময় চলে যায়, সেই সময়ের ক্ষতিপূরণ কে দেবে?

আইনি দুর্বলতায় হচ্ছে না অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় ৭৮ জনের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের ভোলার বাড়ির মৃত নূর আহমদের ছেলে মোহাম্মদ হাসান বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় মামলাটি করেন।

 

মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. মিজানুর রহমানকে (৩২) মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে।

 

গ্রেফতার দুজন হলেন- চন্দনাইশ উপজেলার বরকল ইউনিয়নের কানাইমাদারি এলাকার সরওয়ার কামালের ছেলে মো. সাইমন ইসলাম ওরফে অভি (২৩) এবং আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের আমান উল্ল্যাহ পাড়া এলাকার শামসুল হুদার ছেলে আব্দুর রহিম উদ্দীন (৪২)।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভোরে আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা-পিএবি সড়কে ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। এ সময় আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার উদ্দেশে উসকানিমূলক স্লোগান দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এজাহারে বলা হয়েছে, মিছিলের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর ষড়যন্ত্রে আসামিরা লিপ্ত ছিলেন।

 

মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের একান্ত সহকারী সচিব (পিএস) রিদোয়ানুল করিম চৌধুরী সায়েম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহজাদা মহিউদ্দিন, রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিন শরীফ, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক শওকত ওসমান এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাসহ মোট ৭৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আনোয়ারায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের প্রায় এক মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

 

আনোয়ারা থানার ওসি জুনায়েত চৌধুরী বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা মিছিলের ভিডিও ফেসবুকে প্রচারের পর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ মিছিলের ভিডিও দেখে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর পিএসসহ ৭৮ জনের নামে মামলা

আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকার পতন করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তবে জনগণ তাদের সেই স্বপ্ন পুরণ করতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মুরারীদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

 

রাশেদ খাঁন বলেন, সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম অভিমূখে জামায়াত-এনসিপির লংমার্চের ঘোষণা ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ফেরার পথ তৈরি করছে। জামায়াতের এমপি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, ‘বিএনপি সরকার নাকি বিরোধীদলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের চেয়ে খারাপ আচরণ করছে’। এই বক্তব্যেকে ধিক্কার জানাই।

 

তিনি আরও বলেন, জামায়াত-এনসিপির এমপিরা সংসদে সরাকরি দলের এমপিদের মতো সুবিধা চাইছে। তারা কি সুবিধা পাচ্ছে না? জামায়াত ১৭ বছর তাদের কার্যালয়ের তালা খুলতে পারেনি।

আ. লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াত-এনসিপি সরকার পতন করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে: রাশেদ খাঁন

বিস্তারিত....

Top