
১৭-১৮ বছরেও পাকা হলো না শুকুরখোলা গ্রামের একমাত্র সড়ক, কাদা-পানিতে দুর্ভোগে ৮০-১০০ পরিবারের মানুষ
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ১১ নম্বর বাঁকড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শুকুরখোলা গ্রামের প্রায় ৮০ থেকে ১০০টি পরিবারের একমাত্র চলাচলের সড়কটি দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরেও পাকা না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদা ও পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী, নারী, শিশু ও বয়স্কসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত, কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও জমে থাকা পানির কারণে হেঁটে চলাচল করাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মোটরসাইকেল, ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনও প্রায়ই এই সড়ক ব্যবহার করতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৭-১৮ বছরে এলাকায় একটি পাকা সড়কও নির্মাণ করা হয়নি। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্বাচনের সময় উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।
আমাদের এলাকায় অনেক রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বসবাস রয়েছে। কিন্তু এলাকার উন্নয়নে তাদের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা আমরা দেখতে পাইনি। বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।”
গোলাম রাসুল
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক উদ্যোগে শুকুরখোলা গ্রামের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান হবে। আমরা সরকারের কাছে বিলাসী কোনো প্রকল্প চাই না; শুধু একটি টেকসই পাকা সড়ক চাই, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।”
মো. গোলাম রসুল বলেন, “বর্তমানে আমাদের উপজেলায় জাতীয় সংসদের দুইজন মাননীয় সংসদ সদস্য রয়েছেন। সংরক্ষিত মহিলা আসন-১৪-এর সংসদ সদস্য মোছা. সাবিরা সুলতানা মুন্নি এবং যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মোশলে উদ্দীন ফরিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।”
এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো নতুন সড়ক নয়; বহু বছর ধরে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যায়, কৃষকরা কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যান এবং সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে শুকুরখোলা গ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি টেকসইভাবে পাকা নির্মাণ করবেন। এতে একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে, অন্যদিকে সরকারের চলমান গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের সুফলও এই এলাকার সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারবেন।