Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। - Gono television is the Bangladesh Government Approved 24/7 News Based TV Channel and Most Reliable News Source and Leading 24/7 News Based TV Channel in Bangladesh, It also the Most Popular News Media for Bangaldesh and Bengali Audience worlwide since 2016.

সংবাদ শিরোনামঃ
তিস্তার ঢলে মহিপুর সেতু রক্ষা বাঁধে ধস মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা, দেওয়া হলো গার্ড অব অনার শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আইনশৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটাতে চাইলে ছাড় নয়: র‍্যাব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোট নয়, এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী ইলিয়াস আলীকে গুমের সাথে জিয়াউল আহসান জড়িত ছিলেন’ আগের সরকারের গাফিলতিতেই হামের টিকাদান ব্যাহত, তদন্তের প্রয়োজন নেই সিলেট মাজারে মদ-গাজা বন্ধ ঘোষণার একদিন পরই ডিসি সরওয়ারকে বদলি সম্পত্তির জের: যশোর এমএম কলেজের অধ্যাপককে পিটিয়ে হত্যা

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডার বাস্তবায়নে ইউএন উইমেনের আরও ঘনিষ্ঠ ও ফলপ্রসূ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

 

আজ নিউইয়র্কে জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং ইউএন উইমেনের নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউসের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ আহ্বান জানান।

 

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী উদ্যোগে দেশে নারীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা প্রবর্তনের বিষয়টি স্মরণ করেন এবং বর্তমান সরকারের অধীনে মেয়েদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণসহ নারীর ক্ষমতায়নে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।

 

ইউএন উইমেনের নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউস নারীর ক্ষমতায়নে ও লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের নির্বাচনে অভিনন্দন জানান এবং নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে ইউএন উইমেনের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

এছাড়াও, তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে অর্থায়নের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান।

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ-ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার

উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ঐতিহ্যবাহী মহিপুর তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। পানির তীব্র স্রোতে গত বছর এলজিইডি কর্তৃক দেওয়া বাঁশের পাইলিং ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুসহ রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক। ইতিমধ্যেই সড়কটির অন্তত ১০টি পয়েন্টে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার (২০ জুন) রাত থেকে সেতুটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে তীব্র ভাঙন শুরু হয়। আজ রোববার সকাল ১০টা নাগাদ বাঁধের ৫০ মিটারেরও বেশি অংশ ভেঙে নদীগর্ভে চলে গেছে এবং সেখানে প্রায় ৬০ ফুট গভীর বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করা ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ চরম যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার শঙ্কায় পড়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের এক হাজারের বেশি পরিবার বসতভিটা হারানোর হুমকিতে রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বছরও এই বাঁধটির প্রায় ১০০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। সে সময় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের উজানে অস্থায়ীভাবে বাঁশের পাইলিং দিয়ে সেতুটি রক্ষার চেষ্টা করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে স্থায়ী কোনো টেকসই পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবার পানির স্রোত সেই বাঁশের পাইলিং ভেদ করে বাঁধটি ধসিয়ে দিয়েছে।

 

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত বছর ব্লক দিয়ে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে এলজিইডিকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু কর্মকর্তারা শোনেননি। তারা ১৪ লাখ টাকা খরচ করে সামনে বাঁশের পাইলিং করেছিল। এবার সেই পাইলিংও শেষ, আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখনই জরুরি ব্যবস্থা না নিলে সেতুর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে।

 

তিস্তা সেতু এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী বাদশা মিয়া বলেন, বাঁধ ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে, অথচ এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উজান থেকে নেমে আসা পানি আরও বাড়লে আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।

 

কৃষক খোরশেদ আলী বলেন, এই বাঁধ পুরোপুরি ভেঙে গেলে শুধু সেতুই নয়, আমাদের আবাদি জমিও নদীতে চলে যাবে। এলজিইডি শুধু আমাদের আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে।

 

ভাঙনের তীব্রতার কথা স্বীকার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুল রহমান জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধির কারণে সেতু রক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ শতাংশ ধসে গেছে। তিনি আরও বলেন, গত বছর ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করে এই ধরনের পাইলিং করার পরামর্শ দিয়েছিল। আবারও ভাঙন ধরায় আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিস্তার ঢলে মহিপুর সেতু রক্ষা বাঁধে ধস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং পাশাপাশি তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি কুয়ালালামপুরে পৌঁছালে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

 

আজ রোববার (২১ জুন) স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে কুয়ালালামপুরে এসে পৌঁছান তিনি। দুই দিনের এ সফরে তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

 

বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানান। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিক ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এ সময় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরীসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

এর আগে দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।

মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা, দেওয়া হলো গার্ড অব অনার

নারীদের কেমিক্যাল প্রয়োগ করে অলংকার ও টাকা হাতিয়ে নেওয়া শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটা দল। মামলার প্রেক্ষিতে শনিবার (২০জুন) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তাররা হলেন— নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া এলাকার আবু হাসান, বাবু এবং সবুজ।

 

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সার্বিক দিক নির্দেশনায় প্রায় এক সপ্তাহব্যাপী এই অভিযানটি পরিচালনা করেন ডিবি পুলিশের একদল সদস্য।

 

রোববার (২১জুন) বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাঁর কার্যালয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানান।

 

এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক মাসে নওগাঁ জেলায় একদল অপরাধী শহরের কয়েকটি স্থানে বয়স্ক মহিলাদের টার্গেট করে। এরপর তারা কথিত শয়তানের নিঃশ্বাস অর্থাৎ এক বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করে ওই সকল মহিলাদের সম্মোহিত করে তাদের নিকট থাকা অলংকার এবং টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়। এসপি আরো বলেন, এই কেমিক্যালটা কোনোভাবে কাউকে নাকে প্রয়োগ করলে সেই ব্যক্তি কিছু সময়ের জন্য স্মৃতিভ্রম হয়ে যান এবং অপরাধীর কথামতো কাজ করেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই তার কানের দুল স্বর্ণালংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীর হাতে স্বেচ্ছায় তুলে দেন। এমনকি কখনও বাসার আলমারি খুলেও অলংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীদের হাতে তুলে দিচ্ছে।

 

এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্তে নওগাঁ থানায় মোট তিনটি মামলা হয়। সেই সকল মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ বেশ কয়েকবার নারায়ণগঞ্জ জেলায় অভিযান চালায়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ করে জেলা গোয়েন্দা শাখা জানতে পারে একটি চক্র টাঙ্গাইলে একই ধরনের ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ডিবি পুলিশের একটা চৌকস দল টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাস স্ট্যান্ড থেকে শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

 

এসপি বলেন, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় এই চক্রটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকায় রয়েছে। তাদের আট থেকে দশটি গ্রুপ রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে কেমিক্যাল প্রয়োগ করে এই ধরনের অপরাধ করে বেড়ায়। ইতিমধ্যে তারা নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ এবং খুলনা জেলায় কমপক্ষে দশটি অপরাধ সংগঠিত করেছে।

 

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এই অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্রে তারা বয়স্ক মহিলাদেরকে টার্গেট করত। প্রথমে একজন অভিনয় করে সেই মহিলার কাছে সাহায্য চায়, পরে একজন এসে মহিলার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে এবং অপরজন এসে সেই মহিলাকে শয়তানের নিঃশ্বাস বা কেমিক্যাল স্প্রে করে। এরপর আক্রান্ত মহিলা তাদের কথামতো সম্মোহিত হয়ে তার অলংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীর হাতে তুলে দেয়। নওগাঁ জেলা পুলিশ এই ধরনের অপরাধ দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটায়, তারা ঝুঁকির মধ্যে থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান।

 

আজ রোববার (২১ জুন) মোহাম্মদপুরে র‌্যাব-২ কার্যালয়ে ৫ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে করা এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

 

র‌্যাব অধিনায়ক বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাউরা সোহেলকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তার দেয়া তথ্যমতে আরও দুই ছিনতাইকারী শফিকুল ইলাম সবুজ ও রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

 

পরে আরও দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানান তিনি। গ্রেপ্তার হওয়া মাউরা সোহেলের নামে ছিনতাই-চাঁদাবাজির ১৪টি মামলা রয়েছে।

 

এসময় আগামী ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে র‌্যাবের পদক্ষেপ নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটাতে চাইলে ছাড় দেয়া হবে না।’

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আইনশৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটাতে চাইলে ছাড় নয়: র‍্যাব

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোট না করে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলে জানিয়েছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তারা বলেন, এ সিদ্ধান্ত দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে। তবে এতে ভোট বিভাজনের ঝুঁকিও রয়েছে বলেও জানান তারা।

 

আত্মপ্রকাশের এক বছর পর সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়টি আসন পেয়েছে তরুণদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দলটির নেতারা সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা বলেন। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত কমিটি গঠনের কাজ চলছে বলেও জানান তারা।

 

দলটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সাংগঠনিক কার্যক্রম নির্বাচনের চেয়ে আরও বেশি গতিতে চলছে। আমরা দুইটা বিষয়ে ফোকাস করছি। যেসব এলাকায় কমিটি নেই সেখানে নতুন কমিটি গঠন করা হচ্ছে, আর যেসব কমিটি আগে ছিল সেগুলোর কার্যক্রম ও কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করে সংস্কার করা হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে কিছু ক্ষেত্রে লাভ হবে, যেমন সাংগঠনিক ভিত্তিটা আরও শক্তিশালী হবে। নির্বাচনের স্বার্থে প্রত্যেকটা জায়গা, ওয়ার্ড পর্যন্ত অবশ্যই কমিটি হবে এবং একটা রাজনৈতিক তৎপরতা তৈরি হবে। তবে অন্যদিকে ভোট বিভাজনের কারণে কিছু আসনে জয়ের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।

 

এদিকে, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এখনো নির্বাচন কবে হবে বা কীভাবে হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় জোট নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। এছাড়া, দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন কাউকে দলে না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানের কথাও জানান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, অনেক রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তি যোগাযোগ করলেও আমরা সচেতনভাবে তাদের অনেককে গ্রহণ করতে পারিনি। কারণ এমন কেউ দলে এলে স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা আমরা চাই না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোট নয়, এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি

সরকার গঠনের পর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২১ জুন) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

 

এছাড়া সফরসঙ্গী হয়েছেন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তাবৃন্দ।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুর পৌঁছে পরদিন, ২২ জুন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। সেখানে প্রাধান্য পাবে শ্রমবাজার খোলা, আসিয়ান-এর সদস্যপদ প্রাপ্তি ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। সই হতে পারে সংস্কৃতি বিনিময়সহ কয়েকটি চুক্তি।

 

এদিকে, ২৩ জুন মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি চীনের দালিয়ানে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-এর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সাথে তাঁর বৈঠক হতে পারে।

 

অন্যদিকে, ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন তারেক রহমান। দ্বিপাক্ষিক এই সফরে ১৩টি সমঝোতা স্মারক ও ৪টি চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। সফর শেষে ২৬ জুন রাতে দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

২০১২ সালে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের সাথে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান জড়িত ছিলেন বলে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন জিয়াউলের সাবেক দেহরক্ষী ইমরুল কায়েস। এছাড়া গুম, পিলখানা হত্যাকাণ্ড পরবর্তী অভিযানসহ সাতটি ঘটনায় অন্তত ৩০ জনকে হত্যার বর্ণনা উঠে আসে তার সাক্ষ্যে।

 

রোববার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দি দেন সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস।

 

তিনি বলেন, গুমের পর হত্যা করে টঙ্গীতে রেললাইনের ওপর লাশ ফেলে রাখা, জলদস্যুর নাটক সাজিয়ে সুন্দরবনের গহীন জঙ্গলে হত্যা, পোস্তগোলা বুড়িগঙ্গায় রাতের আঁধারে আসামিদের ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করতেন জিয়াউল আহসান। যার প্রত্যেকটি ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন জিয়াউলের সাবেক দেহরক্ষী।

 

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গুম করা হয় বিএনপি নেতা ইলিয়াম আলীকে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর নির্দেশে ইলিয়াস আলীকে জিয়াউল গুম করেছেন, এমন তথ্য উঠে আসে ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে।

 

পরে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, গুম-খুনের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন জিয়াউল আহসান। তবে এসব অপরাধ অস্বীকার করেন জিয়াউলের আইনজীবী।

ইলিয়াস আলীকে গুমের সাথে জিয়াউল আহসান জড়িত ছিলেন’

২০২৪-২৫ সালের টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। আজ রবিবার (২১ জুন) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি। পর্তুগালের লিসবন সফর শেষে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

 

এ সময় হামের টিকা ঘাটতি বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় গাফিলতির কারণে ২০২৪-২৫ সালের টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে টিকা ও অন্যান্য জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রীর ঘাটতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

 

ব্রিফিংকালে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে আগামী এক বছরের মধ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার। একই সঙ্গে আগামী তিন বছরের মধ্যে উপজেলা ও প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে গর্ভবতী মায়েদের উন্নত সেবা নিশ্চিতে আরও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

তিনি বলেন, সরকার চিকিৎসাব্যবস্থাকে রোগের চিকিৎসানির্ভর ধারা থেকে প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তর করতে চায়। এ লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহুরে ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইউনিট গড়ে তোলা হবে। এসব কেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা থাকবে এবং অন্তত দুজন করে মিডওয়াইফ দায়িত্ব পালন করবেন।

 

তিনি জানান, বর্তমানে ৩০ থেকে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সেখানে স্বাভাবিক প্রসব, নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা ও পূর্ণাঙ্গ মাতৃসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বর্তমানে সরকারি ব্যবস্থায় মাত্র আড়াই থেকে তিন হাজার মিডওয়াইফ কর্মরত আছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ সংকট মোকাবিলায় আগামী এক বছরের মধ্যে সরকারের লক্ষ্যমাত্রার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ মিডওয়াইফ নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

তিনি জানান, এই বিপুলসংখ্যক মিডওয়াইফ নিয়োগের আগে মাঠ পর্যায়ে সেবার মান বাড়াতে তাদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নে সরকার এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 

তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি শক্তিশালী ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলা হবে। এই নতুন নেটওয়ার্কের আওতায় বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো এবং সেখানকার স্বাস্থ্যকর্মীরা সরাসরি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেবেন।

 

তবে দেশের কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক বাতিল হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলোকে বৃহত্তর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কের আওতায় ‘স্বাস্থ্য হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

 

ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ভবিষ্যতে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে প্রতিটি রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রেফারেল ব্যবস্থা সহজ করা যায়।

আগের সরকারের গাফিলতিতেই হামের টিকাদান ব্যাহত, তদন্তের প্রয়োজন নেই

সিলেটের হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজারে দানের ডেগ সিলগালা ও নতুন দানবাক্স বসানোর পর হযরত শাহপরাণের (রহ.) মাজারে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনা ও মাজারে মদ-গাঁজার আসর বন্ধে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। গত শুক্রবার (১৯ জুন) জুমার নামাজের আগে এই নির্দেশনা দেওয়ার একদিন পর তাকে বদলি করা হয়েছে।

 

আজ রবিবার (২১ জুন) দুপুরে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসক থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজের আগে শাহপরান মাজারে যান ডিসি সারওয়ার। নামাজের আগে মাজার মসজিদে বক্তব্য রাখেন তিনি। এ সময় মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনা ও মাজারে মদ-গাঁজার আসর বন্ধে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন তিনি।

 

এ সময় জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ওলি-আউলিয়ারা এই মাটিতে শুয়ে আছেন, উনাদের উসিলায় যেকোনো বালা মুসিবত থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেন, এটা আমরা বিশ্বাস করি। এসব ওলি আউলিয়াদের মাজার-মসজিদ উন্নয়নে কিছু কাজ করা দরকার। পরিকল্পিত উন্নয়ন দরকার। এসব মাজারকেন্দ্রিক একটা মাস্টারপ্ল্যান করা উচিত। এখানে মেডিকেল সেন্টার থাকবে। নারীদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকবে। নিরাপত্তার যথেষ্ট ব্যবস্থা থাকবে।

 

মানুষ দানের ক্ষেত্রে কোন জিনিস চায় প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, মানুষ চায় তার দানের টাকায় কোন জিনিস করবেন এবং তার দানর টাকা স্বচ্ছতা থাকবে। কেউ মেরে নিয়ে যাবে না। তখন সে মন খুলে দান করবে। মানুষ চায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

 

মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই মাজারগুলো পবিত্র স্থান। এই মাজারগুলোর আয়ের হিসেব স্বচ্ছ থাকতে হবে। স্বচ্ছ না থাকলে মানুষের আস্থা থাকবে না।

 

তিনি বলেন, আরেকটা অনুরোধ থাকবে, এই মাজারগুলোতে যাতে কোনোভাবে মদ-গাঁজার আসর না বসে। এই অভিযোগগুলো কিন্তু আমাদের কাছে প্রায়ই আসে- অমুক মাজারে মদ খাইতেছে, গাঁজা খাইতেছে। এটা করা যাবে না। এটি আইনত অপরাধ, আরেকটা হচ্ছে পবিত্র স্থানে বসে অপরাধ করছে। আমরা কিন্তু এ বিষয়ে এখন শক্ত অবস্থান নেব। মাজারে কেউ অপরাধ করলে তার শাস্তি দিগুণ হবে। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।

 

ডিসি সারওয়ার আলম বলেন, আমরা চাই স্বচ্ছতা ও সুন্দর। তাতে ওলি-আউলিয়া যে উদ্দেশ্যে এসেছিলেন সেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে। এখানে এলেই যেন মনে পবিত্রতা আসে। সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

 

মাজারের আয় সরকার এক পয়সাও নেবে না জানিয়ে তিনি বলেন, তবে মাজারের দান হাতে কালেকশন করবেন না। বাক্সে নেবেন। স্বচ্ছতা রাখবেন। আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই।

 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকাল ৪টার দিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজারের আয় ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনার কথা বলে দানবাক্স স্থাপন করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সিলগালা করা হয়েছে দরগাহে থাকা দানের তিনটি ডেগ। দানবাক্স স্থাপনের পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যও নিয়োজিত করা হয়। যদিও এতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মাজার ভক্তরা।

 

প্রশাসনের এমন উদ্যোগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে শাহজালাল (রহ.) মাজারে হাজারও ভক্ত-অনুরাগীরা বিক্ষোভ করেন।

 

নতুন দানবাক্স বসানোর পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাজারের দান সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ভক্তদের দেওয়া সব দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে থাকা এ দান বাক্সগুলোতে জমা হবে। আগে যেমনটা হাতে হাতে দানের টাকা নেওয়া হতো, এখন আর এমনটা করা যাবে না।

সিলেট মাজারে মদ-গাজা বন্ধ ঘোষণার একদিন পরই ডিসি সরওয়ারকে বদলি

 

যশোর এমএম কলেজের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মসলেম উদ্দিন মন্ডলকে (৫৫) বসতভিটা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

জানা যায়, নিহত মসলেম উদ্দিন মন্ডল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হররা ডাক্তারপাড়ার আবেশ মন্ডলের ছেলে। তার পরিবারের সদস্যদের তথ্য নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও স্বজনদের একাংশের দাবি, তিনি একাই বসবাস করতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে নিকটাত্মীয়দের সঙ্গেই যোগাযোগ রক্ষা করতেন।

 

স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক মসলেম উদ্দিন মন্ডলের পৈত্রিক ভিটার চার শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, তার ফুফাতো ভাই রওশন মন্ডলের ছেলে জহুরুল ইসলাম ওই জমি নিজেদের দাবি করে সেখানে পাকা ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। পরে বিষয়টি আদালতে গড়ায়।

 

স্থানীয় আদালত এবং হাইকোর্ট উভয় পর্যায়েই মসলেম উদ্দিন মন্ডলের পক্ষে রায় আসে। গত বছর আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ জমি বুঝিয়ে দিতে এলাকায় গেলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

 

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে বিরোধপূর্ণ জমির ওপর অবস্থিত একটি আমবাগানে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় রওশন মন্ডলের ছেলে জহুরুল ইসলাম ও মামুন, বিশু মন্ডলের ছেলে আশরাফুল, শাজাহান মন্ডলের ছেলে মিঠুন এবং জয়নাল মন্ডলের ছেলে উজ্জ্বল ও মাহাবুলসহ কয়েকজন অধ্যাপক মসলেম উদ্দিন মন্ডলের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

হামলার সময় লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। এতে তার বাম পা, ডান হাত, গোড়ালিসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয়। হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে দাবি স্বজনদের।

 

আরও পড়ুন: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এমপির মৃত্যু

 

ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় রেফার করেন। পরে তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুসনদে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘সেপটিক শক’ উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ঢাকায় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ কুষ্টিয়ায় আনা হয়। শনিবার সকাল ৯টায় হররা গ্রামের ঈদগাহ মাঠে প্রথম জানাজা এবং সকাল সাড়ে ৯টায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

 

শনিবার সকালে এলাকার তথ্য নিয়ে জানা যায়, মরদেহ ঘিরে স্বজন ও এলাকাবাসীর শোকের মাতম চলছে। নিহত শিক্ষকের বড় ভাইয়ের মেয়ে বুলু খাতুনের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, অধ্যাপক মসলেম উদ্দিনকে পরিকল্পিতভাবে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, লাঠি ও হাতুড়ির আঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানের হাড়-মাংস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

 

এমএম কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় বলা হয়, ‘আমাদের সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ (এমএম কলেজ) যশোরের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. মসলেম উদ্দিন স্যার ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। যতটুকু জানা গেছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনি পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’

 

অধ্যাপককে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে যশোর এমএম কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

 

 

 

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ঘটনার দিন ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত মসলেম উদ্দিন মন্ডলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই মামলা চলমান ছিল।

 

তিনি আরও বলেন, নিহত অধ্যাপকের নিকটাত্মীয়ের অভাবে মামলা দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তার এক ভাতিজি থানায় এসে মামলা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছেন। মামলা সম্পন্ন হওয়ার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।

 

অভিযুক্ত জহুরুল ইসলামের ভাবি শিখা বলেন, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তার শ্বশুর বিকল্প জমি বিনিময়ের প্রস্তাব দিলেও মসলেম উদ্দিন মন্ডল তা গ্রহণ না করে মামলা করেছিলেন। তবে ঘটনার রাতে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। বর্তমানে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন।

সম্পত্তির জের: যশোর এমএম কলেজের অধ্যাপককে পিটিয়ে হত্যা

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং পাশাপাশি তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি কুয়ালালামপুরে পৌঁছালে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

 

আজ রোববার (২১ জুন) স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে কুয়ালালামপুরে এসে পৌঁছান তিনি। দুই দিনের এ সফরে তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

 

বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানান। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিক ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এ সময় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরীসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

এর আগে দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।

মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা, দেওয়া হলো গার্ড অব অনার

সরকার গঠনের পর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২১ জুন) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

 

এছাড়া সফরসঙ্গী হয়েছেন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তাবৃন্দ।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুর পৌঁছে পরদিন, ২২ জুন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। সেখানে প্রাধান্য পাবে শ্রমবাজার খোলা, আসিয়ান-এর সদস্যপদ প্রাপ্তি ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। সই হতে পারে সংস্কৃতি বিনিময়সহ কয়েকটি চুক্তি।

 

এদিকে, ২৩ জুন মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি চীনের দালিয়ানে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-এর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সাথে তাঁর বৈঠক হতে পারে।

 

অন্যদিকে, ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন তারেক রহমান। দ্বিপাক্ষিক এই সফরে ১৩টি সমঝোতা স্মারক ও ৪টি চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। সফর শেষে ২৬ জুন রাতে দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

২০১২ সালে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের সাথে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান জড়িত ছিলেন বলে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন জিয়াউলের সাবেক দেহরক্ষী ইমরুল কায়েস। এছাড়া গুম, পিলখানা হত্যাকাণ্ড পরবর্তী অভিযানসহ সাতটি ঘটনায় অন্তত ৩০ জনকে হত্যার বর্ণনা উঠে আসে তার সাক্ষ্যে।

 

রোববার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দি দেন সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস।

 

তিনি বলেন, গুমের পর হত্যা করে টঙ্গীতে রেললাইনের ওপর লাশ ফেলে রাখা, জলদস্যুর নাটক সাজিয়ে সুন্দরবনের গহীন জঙ্গলে হত্যা, পোস্তগোলা বুড়িগঙ্গায় রাতের আঁধারে আসামিদের ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করতেন জিয়াউল আহসান। যার প্রত্যেকটি ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন জিয়াউলের সাবেক দেহরক্ষী।

 

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গুম করা হয় বিএনপি নেতা ইলিয়াম আলীকে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর নির্দেশে ইলিয়াস আলীকে জিয়াউল গুম করেছেন, এমন তথ্য উঠে আসে ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে।

 

পরে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, গুম-খুনের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন জিয়াউল আহসান। তবে এসব অপরাধ অস্বীকার করেন জিয়াউলের আইনজীবী।

ইলিয়াস আলীকে গুমের সাথে জিয়াউল আহসান জড়িত ছিলেন’

খেলাধুলা

জয় দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের একটি ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে আলজেরিয়া ফুটবল কর্তৃপক্ষ।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলজেরিয়া ফিফার রেফারিং কমিশনের কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসি।আলজেরিয়ার দাবি, ম্যাচের প্রথমার্ধে তাদের অধিনায়ক আইসা মান্দির সঙ্গে বলের লড়াইয়ে মেসির একটি ট্যাকল ছিল বিপজ্জনক। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ঘটনায় মান্দির পায়ের পেছনের অংশে আঘাত লাগে। তাদের মতে, ঘটনাটি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন ছিল।

 

ম্যাচে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে। তবে রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং মাঠে তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি পরিচালনা করেন পোল্যান্ডের অভিজ্ঞ রেফারি শিমন মারচিনিয়াক। তিনি এর আগে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আলজেরিয়ার অভিযোগ মূলত রেফারিং সিদ্ধান্ত এবং ঘটনাটির মূল্যায়নকে কেন্দ্র করেই করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি। তিনটি গোল করে তিনি দলকে বড় জয় উপহার দেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ডের সমতায় পৌঁছান।

মেসির সেই ‘ফাউল’ ইস্যুতে ফিফার কাছে নালিশ করল আলজেরিয়া

ডেস্ক রিপোর্টঃ মোঃ ওমর ফারুক

ব্রাজিল ভক্তদের জন্য বড় সুখবর। বিশ্বকাপে পরের ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে দেখা যাবে নেইমারকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেলেসাওদের বস কার্লো আনচেলোত্তি।

 

ছাব্বিশ বিশ্বকাপে মাঠে নামতে ফিট হতে নিজের সাথে যুদ্ধ করছিলেন নেইমার। তবে হাইতির বিরুদ্ধে ম্যাচে নেইমারকে নিয়ে বাড়তি কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি কার্লো আনচেলত্তি। এই ফুটবলারকে ছাড়া খেললেও হাসি নিয়েই মাঠ ছাড়ে সেলসাওরা।

 

এদিকে, দলে ফিরলেও পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে যোগ দিচ্ছিলেন না নেইমার। ফিটনেস ফিরে পেতে হালকা দৌড় ও ফিটনেস ট্রেনিংয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিলেন তিনি।

 

এবার ম্যাচের জন্য সবুজ সংকেত পেয়েছেন মেডিকেল টিমের কাছ থেকে। তাই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে দেখা যাবে তার পায়ের জাদু। রোববার দলের সাথে পূর্নাঙ্গ অনুশীলনে তিনি যোগ দিচ্ছেন এই সেলেসাও তারকা।

ব্রাজিল শিবিরে সুখবর, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ফিরছেন নেইমার

জাতিসংঘ মহাসচিবের মায়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো তাদের নিজ দেশ মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ উল্লেখ করেছে যে, প্রায় এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় এবং রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়।

 

শনিবার (২০ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

 

রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মায়ানমারে এবং এর স্থায়ী সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে।

 

তিনি আরো উল্লেখ করেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে দীর্ঘদিন আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের ওপর উল্লেখযোগ্য সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

 

সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা আরো জোরদারের আহ্বান জানান, যেন রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে দ্রুত প্রত্যাবাসনে জোর

মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর হতাশা ভুলে জয়ে ফিরল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আজ শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সেলেসাওরা পুরো ম্যাচেই আধিপত্য ধরে রেখে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতির রক্ষণভাগকে চেপে ধরে আক্রমণভাগ। ম্যাচের ১২ মিনিটে বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড রাফিনিয়ার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এর মিনিট দশেক পর আরও একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি। তবে ব্রাজিলের গোলের অপেক্ষা ফুরোায় ম্যাচের ২৩ মিনিটে। ভিনিসিউস জুনিয়রের জোরালো শট হাইতি গোলরক্ষক জনি প্লাসিড কোনোমতে ঠেকালেও ফিরতি বলে নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন মাতেউস কুনিয়া।

 

প্রথম গোলের পর ব্রাজিলের আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায়। ৩৬ মিনিটে ভিনিসিউসের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কুনিয়া। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনির বাড়ানো রক্ষণচেরা থ্রু পাস ধরে বাঁ পায়ের দারুণ শটে বল জালে জড়ান এই স্ট্রাইকার। তবে এর চার মিনিট পরেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় রাফিনিয়াকে, তাঁর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ উইঙ্গার রায়ান।

 

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে নিজেই গোলদাতাদের তালিকায় নাম লেখান ভিনিসিউস। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে ৩-০ ব্যবধানের বড় লিড এনে দেন তিনি।

 

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে সেলেসাওরা। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে জোড়া গোল করা কুনিয়া এবং লুকাস পাকেতাকে তুলে নিয়ে তরুণ সেনসেশন এনদ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে মাঠে নামান কোচ আনচেলত্তি। ৭৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা এনদ্রিক বল জালে জড়ালেও দুর্ভাগ্যবশত সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলেও বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

 

প্রথম ম্যাচের ড্র থেকে শিক্ষা নিয়ে এই ম্যাচে নিজেদের চিরচেনা আক্রমণাত্মক ফুটবল শৈলীতে ফিরল লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা, যা বিশ্বকাপের পরের ধাপের লড়াইয়ে দলটিকে বড় আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

ভিনি-কুনহার চমক হাইতিকে উড়িয়ে ঘুরে দাঁড়াল ব্রাজিল

 

ভ্যাঙ্কুবারের মাঠে শুক্রবার (১৯ জুন) ফুটবলীয় গোলের উৎসব চললেও, গ্যালারি ও মাঠের ফুটবলারদের স্তব্ধ করে দিয়েছে এক বিভীষিকাময় চোট। ২০২৬ বিশ্বকাপে কাতারের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে ৬-০ গোলের এক চোখ ধাঁধানো জয় তুলে নিয়েছে সহ-আয়োজক কানাডা। বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসে এটিই কানাডিয়ানদের প্রথম ঐতিহাসিক জয়।

 

জোনাথন ডেভিডের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক আর জ্যাকব শ্যাফেলবার্গের গোলে বড় জয় নিশ্চিত হলেও, ম্যাচটি ফুটবল বিশ্ব মনে রাখবে ৫২ মিনিটে কানাডিয়ান মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনের মারাত্মক ইনজুরির জন্য, যা পুরো স্টেডিয়ামকে বিষাদের চাদরে ঢেকে দিয়েছিল।

 

ম্যাচের ৫২তম মিনিটে ডাগআউটের ঠিক সামনেই ঘটে সেই নারকীয় ঘটনা। কাতারের আসিম মাদিবো অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে এক চ্যালেঞ্জ করতে গেলে সরাসরি পা ভেঙে যায় ইসমাইল কোনের। যন্ত্রণায় কোনের সেই চিৎকার শুনেই কানাডার ফুটবলাররা আতঙ্কিত হয়ে মেডিকেল টিমকে মাঠে আসার জন্য ইশারা করতে থাকেন।

 

সম্প্রচারকারীরা ঘটনার ভয়াবহতার কারণে রিপ্লে না দেখালেও, টাচলাইনের মাইক্রোফোনে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে কেউ বলছেন, ‘পা তো ঝুলে পড়েছে’ মাঠের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা দ্রুত কোনের চারপাশে এক মানবপ্রাচীর তৈরি করেন যেন সেই দৃশ্য ক্যামেরায় না আসে। ঘটনার তীব্রতায় রেফারি ভিএআর দেখে মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এর আগে প্রথমার্ধে হোমাম এল আমিন দুই হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় কাতার পরিণত হয় ৯ জনের দলে।

 

ভয়াবহ এই ঘটনার ১০ মিনিট পর খেলা পুনরায় শুরু হলে, ৬৫ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে বদলি খেলোয়াড় নাথান সালিবা গোল করে কানাডাকে এগিয়ে নেন। গোল উদযাপনে সালিবা ডাগআউটে ছুটে গিয়ে ইসমাইল কোনের জার্সি উঁচিয়ে ধরে সতীর্থের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করেন। এরপর যেন গোলের বন্যা বইয়ে দেয় কানাডা। জ্যাকব শ্যাফেলবার্গের গোলের পর জোনাথন ডেভিড এক অনবদ্য হ্যাটট্রিক করে দলকে ৬-০ গোলের পাহাড়সম জয় এনে দেন।

 

ম্যাচ শেষে কানাডার প্রধান কোচ জেসি মার্শ জানান, ডাগআউটের সামনে হাড় ভাঙার শব্দ এতটাই স্পষ্ট ছিল যে পুরো স্কোয়াড মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তবে হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিতে থাকা কোনে যেভাবে স্ট্রেচারে শোয়া অবস্থাতেই দর্শকদের হাত নাড়িয়ে অভয় দিচ্ছিলেন, তা তার ব্যক্তিত্বের এক অনন্য উদাহরণ। কোনের সেই অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতেই আজ কাতারকে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছে কানাডিয়ানরা।

বিশ্বকাপে কানাডার প্রথম জয়ের দিনে মাঠেই পা ভাঙল ইসমাইলের কোনের

প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারানোর পর ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের খোঁজে আগামীকাল সকালে মাঠে নামছে ব্রাজিল। গ্রুপ ‘সি’-এর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ফিলাডেলফিয়ায় সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল দল হাইতি। প্রথম ম্যাচের মন্থর গতি ও পয়েন্ট হারানোর ধাক্কা সামলে টুর্নামেন্টে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে কার্লো আনচেলত্তির দল এই ম্যাচে জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না। ব্রাজিলের ফিফা র‍্যাঙ্কিং ৫, বিপরীতে ৮৫তম স্থানে থাকা হাইতির লক্ষ্য বিশ্বমঞ্চে যেকোনো মূল্যে এক অবিশ্বাস্য অঘটন ঘটানো।

 

ছন্দের খোঁজে সেলেসাওদের কৌশল

মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স মোটেও আশানুরূপ ছিল না। ম্যাচ শেষে মাঠের শুষ্কতাকে দায়ী করে ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বলেছিলেন, ‘মেটলাইফ স্টেডিয়ামের শুকনো উপরিভাগের কারণে ব্রাজিল তাদের স্বাভাবিক ছন্দ পাচ্ছিল না।’ তবে ফিলাডেলফিয়ার মাঠে সেই অজুহাত খাটবে না।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতি তাদের রক্ষণাত্মক ৪-৩-২-১ ফর্মেশন নিয়ে নিজেদের গোলপোস্ট পাহারা দিতে ব্যস্ত থাকবে এবং কাউন্টার অ্যাটাকের (পাল্টা আক্রমণ) ওপর ভরসা করবে। ব্রাজিলের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে এই জমাট রক্ষণ ভাঙা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়ার ব্যক্তিগত স্কিল এবং গতিই হতে পারে এই ম্যাচের মূল চাবিকাঠি। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে হাইতির বিপক্ষে খেলা তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই ব্রাজিল বড় ব্যবধানে জিতেছে এবং ন্যূনতম ৬টি করে গোল দিয়েছে। ফলে আজ প্রথম ম্যাচের খরা কাটাতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।

 

প্রথম একাদশের ব্যবচ্ছেদ

প্রথম ম্যাচে দলের আক্রমণভাগের ব্যর্থতার কারণে কোচ কার্লো আনচেলত্তি আজকের একাদশে বড় ধরনের কিছু কৌশলগত পরিবর্তন আনতে পারেন। প্রথম ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ডের স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগো নিজের নামের প্রতি বিচার করতে না পারায় তাঁর জায়গায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাথেউস কুনিয়াকে ৯ নম্বর জার্সিতে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে দেখা যেতে পারে।

 

একই সাথে মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগেও পরিবর্তনের আভাস রয়েছে। প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়া রজার ইবানেজের জায়গায় আজ শুরু থেকেই দেখা যেতে পারে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলোকে। এ ছাড়া মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা কিংবা কাসেমিরোর জায়গায় ফাবিনিও এবং ব্রুনো গিমারায়েসের অন্তর্ভুক্তি মাঝমাঠের আক্রমণের ধার বাড়াতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে অল্প ব্যবধানে হারা হাইতি দলে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। রাইট ফ্ল্যাঙ্কে লুইসিয়াস দিদসনের ফর্ম নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে তাঁর আগের একাদশের ওপরই ভরসা রাখতে পারেন।

 

একাদশ

ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ (৪-৪-২):

 

অ্যালিসন (গোলরক্ষক), দানিলো, মার্কিনহোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস, সান্তোস, লুকাস পাকেতা/ফাবিনিও, কাসেমিরো/গিমারায়েস, রাফিনিয়া, মাথেউস কুনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ইগর থিয়াগো।

 

হাইতির সম্ভাব্য একাদশ (৪-৪-২):

 

প্লাসিদ (গোলরক্ষক), আরকুস, আদে, দেলক্রোয়া, এক্সপেরিয়েন্স, লুইসিয়াস দিদসন/কাসিমির, জাক, বেলেগার্দে, প্রভিডেন্স, ইসিদোর ও পিয়েরো।

 

দুই দলের সমীকরণ

গ্রুপ ‘সি’-তে এই মুহূর্তে সুইজারল্যান্ড ও কানাডা ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ব্রাজিল যদি আজ হাইতির বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিততে না পারে, তবে পরের রাউন্ডের পথ তাদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে উঠবে। শক্তির বিচারে দুই দলের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত থাকলেও হাইতিকে একেবারে হালকাভাবে নেওয়া যাচ্ছে না। কারণ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তারা দারুণ লড়াই করেছিল এবং বল দখলে এগিয়ে ছিল। তবে অতীত পরিসংখ্যান ও ফুটবলীয় শক্তি বিবেচনায় এই ম্যাচে ব্রাজিলের ২-০ বা তার চেয়ে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা।

জয়ের জন্য মরিয়া ব্রাজিলের সামনে দুর্বল হাইতি, একাদশে থাকছেন যারা

বিস্তারিত....

বিনোদন

আজ ২৫শে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম আবির্ভাব দিবস। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ শে বৈশাখ, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষের অন্যতম এই নায়কের। তিনি অনন্য সব সৃষ্টি গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প ও অসংখ্য গানের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বের কাছে।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন আট বছর বয়সে। ১৮৯১ সাল থেকে বাবার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও ওড়িশার জমিদারি তদারকি শুরু করেন। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘসময় অতিবাহিত করেন। ১৯০১ সালে সপরিবারে চলে আসেন বীরভূমের বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ এবং অন্যান্য গদ্য সংকলন। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ নোবেল বিজয়ী এই সহিত্য প্রতিভাকে স্মরণ করবে তার অগণিত ভক্ত।

 

বিটিভিতে সকাল ৯টায় থাকছে বিশেষ শিশুতোষ অনুষ্ঠান। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রচারিত হবে রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান ‘গীতবিতান’। সন্ধ্যা ৬টায় থাকছে বিশেষ কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান। রাত ৯টায় থাকছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নাটক ‘সম্পত্তি সমর্পণ’। রাত ১০টায় সংবাদের পর প্রচারিত হবে বিশেষ রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে কবির বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রিয় ৯টি গান পরিবেশন করবেন একঝাঁক রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। রাত ১১টায় প্রচারিত হবে ‘চিত্রাঙ্গদা’।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যজগৎ ছিল নানা বর্ণ, মানসিকতা ও চেতনায় ভরপুর। তাইতো, নিঃসঙ্গতার প্রতিচ্ছবি চারুলতা, সামাজিক বেড়াজাল ভেঙে আত্মসচেতন হয়ে ওঠা বিনোদিনী কিংবা গোরা উপন্যাসের স্বদেশপ্রেম ও জাতিসত্তার পরিচয়ে জর্জরিত পুরুষের মধ্যে আজও পাঠক খুঁজে ফেরে নিজেদের। বাংলার মাটিতে যেমন তাঁর কদর, তেমনি বিশ্ব দরবারেও সমানভাবে ছড়িয়ে আছে তার দীপ্তি। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯১৩ সালে নবজাগরণের এই পুরোধাকে ভূষিত করা হয় নোবেল পুরস্কারে। দিনটি উদযাপনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে নানা আয়োজন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী আজ

প্রতিবেদন: ওমর ফারুক

আজ ৩ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়বদ্ধতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।

১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে ৩ মে-কে বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে ১৯৯১ সালে নামিবিয়ার উইন্ডহুকে গৃহীত উইন্ডহুক ঘোষণা-এর মাধ্যমে স্বাধীন ও বহুমুখী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়, যা পরবর্তীতে এই দিবস ঘোষণার ভিত্তি তৈরি করে।

বর্তমান সময়ে গণমাধ্যম সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখছেন।

বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে গণ টেলিভিশন-এর পক্ষ থেকে দেশের সকল সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও দর্শকদের জানানো হয়েছে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস

প্রতিবেদনঃ ওমর ফারুক

যারা বিবাহিত, তাদের তুলনায় অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক গবেষণায় এমন চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

 

 

২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় সব ধরনের প্রধান ক্যানসারের ক্ষেত্রেই অবিবাহিতদের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত।

 

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে মলদ্বারের ক্যানসারের হার বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ বেশি।

গবেষকদের মতে, বিয়ে অনেক সময় মানুষের জীবনযাপনকে প্রভাবিত করে। খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার মতো বিষয়গুলো এতে যুক্ত থাকে। ফলে এটি পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এর মানে এই নয় যে বিয়ে করলেই ক্যানসার থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে। বরং এটি একটি সামাজিক ও আচরণগত ইঙ্গিত মাত্র।

 

গবেষকরা আরও বলেছেন, যারা অবিবাহিত, তাদের উচিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা। নিয়মিত পরীক্ষা করানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখে।

 

অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, বলছে গবেষণা

বিস্তারিত....

মতামত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোট না করে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলে জানিয়েছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তারা বলেন, এ সিদ্ধান্ত দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে। তবে এতে ভোট বিভাজনের ঝুঁকিও রয়েছে বলেও জানান তারা।

 

আত্মপ্রকাশের এক বছর পর সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়টি আসন পেয়েছে তরুণদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দলটির নেতারা সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা বলেন। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত কমিটি গঠনের কাজ চলছে বলেও জানান তারা।

 

দলটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সাংগঠনিক কার্যক্রম নির্বাচনের চেয়ে আরও বেশি গতিতে চলছে। আমরা দুইটা বিষয়ে ফোকাস করছি। যেসব এলাকায় কমিটি নেই সেখানে নতুন কমিটি গঠন করা হচ্ছে, আর যেসব কমিটি আগে ছিল সেগুলোর কার্যক্রম ও কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করে সংস্কার করা হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে কিছু ক্ষেত্রে লাভ হবে, যেমন সাংগঠনিক ভিত্তিটা আরও শক্তিশালী হবে। নির্বাচনের স্বার্থে প্রত্যেকটা জায়গা, ওয়ার্ড পর্যন্ত অবশ্যই কমিটি হবে এবং একটা রাজনৈতিক তৎপরতা তৈরি হবে। তবে অন্যদিকে ভোট বিভাজনের কারণে কিছু আসনে জয়ের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।

 

এদিকে, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এখনো নির্বাচন কবে হবে বা কীভাবে হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় জোট নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। এছাড়া, দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন কাউকে দলে না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানের কথাও জানান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, অনেক রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তি যোগাযোগ করলেও আমরা সচেতনভাবে তাদের অনেককে গ্রহণ করতে পারিনি। কারণ এমন কেউ দলে এলে স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা আমরা চাই না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোট নয়, এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া প্রায় এক মিনিটের ভিডিওতে মাদারীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা এমপিকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বলেন, ‘এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো।’

 

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একটি সালিশ বৈঠকে তার উত্তেজিত আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে টেবিল চাপড়ে উপস্থিত এক বিএনপি কর্মীসহ কয়েকজনকে ধমক দিতে দেখা যায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের চর বাচামারা মৌলভীকান্দি গ্রামে একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে বিএনপি কর্মী তারামিয়াসহ উভয় পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

 

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সালিশ চলাকালে এক পক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংসদ সদস্য হানজালা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

সালিশে উপস্থিত বিএনপি কর্মী তারা মিয়া বলেন, ‘বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। আমার মনে হয়েছে, এমপি সাহেব অন্যদের কথা শোনার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত দিতে চাচ্ছিলেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। যাকে জরিমানা করা হয়েছে, তিনি একজন দরিদ্র মানুষ। তার পক্ষে এত টাকা দেওয়া কঠিন।’

 

তারা মিয়া আরও বলেন, ‘যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত আসতেই পারে। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো ধৈর্যের সঙ্গে সেসব কথা শোনা। অন্যথায় সেটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে একতরফা সিদ্ধান্তে পরিণত হয়।’

 

স্থানীয়রা জানান, বৈঠকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এমপি হানজালা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় উপস্থিত একজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে রেকর্ডিংটি সেখানেই শেষ হয়।

 

ভিডিওটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ‘ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। এলাকার মানুষ আমাকে ছাড়া সালিশে বসতে চায়নি, তাই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। সালিশের সময় উভয় পক্ষ তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বারবার কথা কাটাকাটি করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই আমি ধমক দিয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত বিচার কাজ সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।’

 

প্রসঙ্গত, মাওলানা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে অল্প ভোটের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন পীরজাদা হানজালা। এর আগেও তিনি ‘খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি দেশে থাকতে পারবে না’ বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন। পরে অবশ্য তিনি এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন

চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো’— সালিশ বৈঠকে এমপি হানজালা

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

 

আজ বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) বিকেলে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি পল্টন ও কাকরাইল মোড় ঘুরে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।

 

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন দলটির নেতারা।

 

বিক্ষোভ সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দুই বছর দাম না বাড়ানোর আশ্বাস দিলেও মাত্র তিন মাসের মাথায় মূল্যবৃদ্ধি করে সরকার জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।’

 

তিনি অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং তা না হলে সরকারকে জনগণের ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে বলেও হুশিয়ারি দেন।

 

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘ গ্রাহক পর্যায়ে ছয়টি স্লটে যেভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে, তাতে প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়বে। বিদ্যুৎ সেক্টরে সিস্টেম লস ও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও দুর্নীতি বন্ধ না করে, সাধারণ মানুষের পকেট কেটে সেই টাকা ভরাট করার চেষ্টা চলছে।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের গোলাম নই। তাদের কথায় বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণের দুঃখ-কষ্ট বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সারা বিশ্ব যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে, সরকার সেদিকে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বোঝার ওপর শাকের আঁটি চাপিয়ে দিচ্ছে।’

 

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পল্টন ও কাকরাইল মোড় ঘুরে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।

 

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম জুন থেকে কার্যকর।

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান।

 

বুধবার (৩ জুন) নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে হান্নান মাসউদের একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং এসব বৈঠকের অনেকগুলো রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হতো।

 

রাশেদ খানের দাবি, এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সংসদ সদস্যকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে ৪ কোটি টাকার একটি সমঝোতার আলোচনা হয়।

 

বৈঠক শেষে হান্নান মাসউদ আব্দুল গাফফার জিসানকে বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ১ কোটি টাকা দিতে চান, তবে ৩ কোটি টাকায় চুক্তি করার চেষ্টা করতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন, ওই নেতাদের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে এবং অর্থের প্রয়োজন আছে বলেও হান্নান মাসউদ মন্তব্য করেছিলেন।

 

পোস্টে রাশেদ খান বলেন, হান্নান মাসউদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হাতিয়ার বাসিন্দা আব্দুল গাফফার জিসান।

 

তিনি জানান, ২৭ জুলাইয়ের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও আব্দুল গাফফার জিসানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। জিসান বিভিন্ন সময় সমন্বয়কদের ছবি ও ভিডিও ধারণের কাজও করতেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

রাশেদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে জিসান হান্নান মাসউদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। তবে হান্নান মাসউদের অর্থের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ ও আচরণগত পরিবর্তনের কারণে পরবর্তীতে তিনি দূরে সরে যান।

 

ফেসবুক পোস্টে নোয়াখালীর হাতিয়া আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীকে নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ খান।

 

তার দাবি, হান্নান মাসউদ মনে করতেন মোহাম্মদ আলী তার রাজনৈতিক পথে প্রধান বাধা। এ কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রভাব ব্যবহার করে তাকে গ্রেফতারে ভূমিকা রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

রাশেদ খান আরও দাবি করেন, ব্যক্তিগত আলোচনায় হান্নান মাসউদ নাকি বলেছেন যে নোয়াখালীর আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের সঙ্গে তার কোনো দ্বন্দ্ব নেই, কেবল মোহাম্মদ আলীর সঙ্গেই বিরোধ রয়েছে।

 

একই সঙ্গে নোয়াখালীর রাজনীতিতে প্রভাবশালী হতে হলে মোহাম্মদ আলীর মতো অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বিভিন্ন আলোচনায় তুলে ধরতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আ.লীগ নেতাকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে ৩ কোটি দাবি করেছিলেন হান্নান মাসউদ’

বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে তড়িঘড়ি করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা এক ধরনের ধোঁকাবাজি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

 

তিনি বলেন, ‘সরকার আগে আশ্বস্ত করেছিল অন্তত চলতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে না। এরপরও যদি নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে তা হবে জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ।

 

রোববার (৩১ মে) দিনগত মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

 

তিনি বলেন, ‘গত মাসেই এক দফায় ৮ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও, ফলে দ্রব্যমূল্য আরও বেড়ে গেছে। কিন্তু মানুষের আয় না বাড়লেও বেকারত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।’তিনি অভিযোগ করেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে আবারও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে। জনগণ ইতোমধ্যে দিশেহারা অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তারা কোথায় যাবে, কী করবে এবং কীভাবে জীবনযাপন করবে—সেই প্রশ্ন এখন সামনে চলে এসেছে।’

 

জামায়াত আমির বলেন, ‘এক সপ্তাহের ব্যবধানে জাতীয় বাজেট অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে যদি তড়িঘড়ি করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে।’

 

তিনি এ ধরনের যেকোনো জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার ঘোষণা দেন।

 

বিবৃতিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে জনগণকেই সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কথা বলতে হবে এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে দাবি আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পাশে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, দেশে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি ঘটেছে, তার সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি যুক্ত হয়ে দেশ ও সমাজের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, অধিকার কেউ কাউকে এনে দেয় না; তা সংগ্রাম ও আন্দোলনের মাধ্যমেই অর্জন করতে হয়।

 

এর আগে রোববার জুন মাসের জন্য দেশে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে সরকার। নতুন দাম অনুযায়ী, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা করে বেড়েছে। তবে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

 

এদিন রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন মূল্য আজ (সোমবার) থেকেই কার্যকর হবে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ জনস্বার্থবিরোধী: জামায়াত আমির

বিস্তারিত....

সারাবাংলা

নারীদের কেমিক্যাল প্রয়োগ করে অলংকার ও টাকা হাতিয়ে নেওয়া শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটা দল। মামলার প্রেক্ষিতে শনিবার (২০জুন) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তাররা হলেন— নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া এলাকার আবু হাসান, বাবু এবং সবুজ।

 

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সার্বিক দিক নির্দেশনায় প্রায় এক সপ্তাহব্যাপী এই অভিযানটি পরিচালনা করেন ডিবি পুলিশের একদল সদস্য।

 

রোববার (২১জুন) বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাঁর কার্যালয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানান।

 

এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক মাসে নওগাঁ জেলায় একদল অপরাধী শহরের কয়েকটি স্থানে বয়স্ক মহিলাদের টার্গেট করে। এরপর তারা কথিত শয়তানের নিঃশ্বাস অর্থাৎ এক বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করে ওই সকল মহিলাদের সম্মোহিত করে তাদের নিকট থাকা অলংকার এবং টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়। এসপি আরো বলেন, এই কেমিক্যালটা কোনোভাবে কাউকে নাকে প্রয়োগ করলে সেই ব্যক্তি কিছু সময়ের জন্য স্মৃতিভ্রম হয়ে যান এবং অপরাধীর কথামতো কাজ করেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই তার কানের দুল স্বর্ণালংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীর হাতে স্বেচ্ছায় তুলে দেন। এমনকি কখনও বাসার আলমারি খুলেও অলংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীদের হাতে তুলে দিচ্ছে।

 

এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্তে নওগাঁ থানায় মোট তিনটি মামলা হয়। সেই সকল মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ বেশ কয়েকবার নারায়ণগঞ্জ জেলায় অভিযান চালায়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ করে জেলা গোয়েন্দা শাখা জানতে পারে একটি চক্র টাঙ্গাইলে একই ধরনের ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ডিবি পুলিশের একটা চৌকস দল টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাস স্ট্যান্ড থেকে শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

 

এসপি বলেন, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় এই চক্রটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকায় রয়েছে। তাদের আট থেকে দশটি গ্রুপ রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে কেমিক্যাল প্রয়োগ করে এই ধরনের অপরাধ করে বেড়ায়। ইতিমধ্যে তারা নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ এবং খুলনা জেলায় কমপক্ষে দশটি অপরাধ সংগঠিত করেছে।

 

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এই অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্রে তারা বয়স্ক মহিলাদেরকে টার্গেট করত। প্রথমে একজন অভিনয় করে সেই মহিলার কাছে সাহায্য চায়, পরে একজন এসে মহিলার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে এবং অপরজন এসে সেই মহিলাকে শয়তানের নিঃশ্বাস বা কেমিক্যাল স্প্রে করে। এরপর আক্রান্ত মহিলা তাদের কথামতো সম্মোহিত হয়ে তার অলংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীর হাতে তুলে দেয়। নওগাঁ জেলা পুলিশ এই ধরনের অপরাধ দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

২০২৪-২৫ সালের টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। আজ রবিবার (২১ জুন) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি। পর্তুগালের লিসবন সফর শেষে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

 

এ সময় হামের টিকা ঘাটতি বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় গাফিলতির কারণে ২০২৪-২৫ সালের টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে টিকা ও অন্যান্য জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রীর ঘাটতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

 

ব্রিফিংকালে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে আগামী এক বছরের মধ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার। একই সঙ্গে আগামী তিন বছরের মধ্যে উপজেলা ও প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে গর্ভবতী মায়েদের উন্নত সেবা নিশ্চিতে আরও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

তিনি বলেন, সরকার চিকিৎসাব্যবস্থাকে রোগের চিকিৎসানির্ভর ধারা থেকে প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তর করতে চায়। এ লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহুরে ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইউনিট গড়ে তোলা হবে। এসব কেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা থাকবে এবং অন্তত দুজন করে মিডওয়াইফ দায়িত্ব পালন করবেন।

 

তিনি জানান, বর্তমানে ৩০ থেকে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সেখানে স্বাভাবিক প্রসব, নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা ও পূর্ণাঙ্গ মাতৃসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বর্তমানে সরকারি ব্যবস্থায় মাত্র আড়াই থেকে তিন হাজার মিডওয়াইফ কর্মরত আছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ সংকট মোকাবিলায় আগামী এক বছরের মধ্যে সরকারের লক্ষ্যমাত্রার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ মিডওয়াইফ নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

তিনি জানান, এই বিপুলসংখ্যক মিডওয়াইফ নিয়োগের আগে মাঠ পর্যায়ে সেবার মান বাড়াতে তাদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নে সরকার এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 

তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি শক্তিশালী ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলা হবে। এই নতুন নেটওয়ার্কের আওতায় বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো এবং সেখানকার স্বাস্থ্যকর্মীরা সরাসরি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেবেন।

 

তবে দেশের কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক বাতিল হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলোকে বৃহত্তর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কের আওতায় ‘স্বাস্থ্য হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

 

ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ভবিষ্যতে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে প্রতিটি রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রেফারেল ব্যবস্থা সহজ করা যায়।

আগের সরকারের গাফিলতিতেই হামের টিকাদান ব্যাহত, তদন্তের প্রয়োজন নেই

ফেনীর দাগনভূঞায় টানা ৪০ দিন মসজিদে জামাতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে বাইসাইকেল উপহার পেয়েছেন ৯ জন শিশু-কিশোর। একইসঙ্গে ১০টি সূরা মুখস্থ ও মাসালা মাসায়েল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ৪১ জন পেয়েছেন শিক্ষা উপকরণ ও ইসলামিক বই।

 

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ওমরাবাদ গ্রামে ‘আলোর মশাল’ সংগঠনের উদ্যোগে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ও সমাজসেবক অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। প্রধান বক্তা ছিলেন দাগনভূঞা-সোনাগাজী উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।

 

জানা যায়, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহীদ উল্লাহ। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবকরা।

 

আয়োজকরা জানান, এই প্রতিযোগিতায় তিনটি মসজিদের মোট ৪১ জন শিশু-কিশোর অংশ নেয়। তারমধ্যে টানা ৪০ দিন মসজিদে জামাতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ায় ৯ জন শিশু-কিশোরকে সাইকেল উপহার দেয়া হয়। ৪১ জনকে স্কুল ব্যাগসহ শিক্ষাসামগ্রী ও বই প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও উপহার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

 

ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারা।

 

এ বিষয়ে আলোর মশালের আহবায়ক শাহাদাত হোসেন বলেন, ঘোষণার পর থেকে শিশু-কিশোররা মসজিদে নিয়মিত জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় শুরু করে। পাশাপাশি প্রাথমিক সূরাগুলো অর্থসহ মুখস্থ করানো হয়েছে। একটানা ৪০ দিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায়ের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রত্যেককে একটি করে সাইকেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অংশগ্রহণকারী সব শিশুকে স্কুলব্যাগ, শিক্ষাসামগ্রী ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

 

এদিকে বেতুয়া দাখিল মাদ্রাসার সহ-সুপার মাওলানা মনির হোসেনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন- বীকন মডেল কলেজের প্রভাষক ও ওমরা-বাদ সমাজকল্যাণ সংস্থা সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল-মামুন, যুগ্ম সম্পাদক হাফেজ নাসির উদ্দিন, সংস্থার সদস্য ডা. শাহজাহান, সমাজসেবক মনিরুল আজিম। আলোর মশালের আহবায়ক শাহাদাত হোসেন, সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক রাফি প্রমুখ।

টানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ আদায় করে সাইকেল পেল ৯ শিশু-কিশোর

বিস্তারিত....

Top